তানভীর ভুইয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ||
অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইলের ব্যক্তির ৬০ লাখ টাকা প্রতারণা: গ্রেপ্তার ২তানভীর ভুইয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি: অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বিষয়টি পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া এলাকার মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বকসাপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। গ্রেফতারের পর দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।পিবিআই জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ সামাল প্রতারণার শিকার হয়ে সরাইল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বাদী মোহাম্মদ সামাল ও তার আত্মীয়-স্বজনদের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে প্রলুব্ধ করা হলেও একপর্যায়ে প্রতারকরা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন।মামলার পর পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিকাশ অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি ও লেনদেন বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করেন।পরে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সৈয়দপুরের জিকরুল হক রোড এলাকার একটি মোবাইল মার্ট ও বিকাশ অফিস থেকে খাইরুল ইসলাম ও জাবেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে, খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক হলেও প্রতারক চক্রের নির্দেশনায় ভুয়া প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। চক্রের অন্যতম পলাতক সদস্য ‘প্রাণ ইসলাম’ তাকে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়। পরে ‘আরিফ মণ্ডল’ নামে ছদ্ম পরিচয়ে ভিডিও তৈরি করা হয়, যেখানে তাকে সৌদি প্রবাসী পরিচয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সফল হওয়ার গল্প প্রচার করতে দেখা যায়।এসব ভিডিও ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুস্ট করে প্রবাসী ও বিদেশগামীদের টার্গেট করা হতো। এই ভুয়া ভিডিও তৈরির জন্য খাইরুল ইসলাম আড়াই লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলেও তদন্তে জানা গেছে।অন্যদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশের ডিএসও হিসেবে নিজের পদ ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেনের গতিপথ পরিবর্তন বা ‘লেয়ারিং’-এর কাজে সহযোগিতা করতেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি লাখ টাকায় ৫০০ টাকা এবং প্রতি হাজারে ৫ টাকা কমিশন নিতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআইয়ের দাবি, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল।পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানিয়েছেন, চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।