আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: ||
কাজীপাড়ায় পুকুরপাড়ে অবৈধ মাটি কাটার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানাআবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়ায় ফসলি জমির পাশে পুকুরপাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২০ মে (বুধবার), উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বেড়া উপজেলার খানপুরা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন (পিতা: আইয়ুব আলী) নামে হাতেনাতে আটক করা হয়।আদালত সূত্রে জানা যায়, কাজীপাড়া এলাকার আবদুর রউফের বাড়ির পাশে হালিম মোল্যার পুকুরপাড়ে ফসলি জমি হুমকিতে ফেলে ‘ভেক্যু’ (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।অভিযান টের পেয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উপজেলা ভূমি অফিসের নাইটগার্ড আমিরুল ইসলাম নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অসীম সাহসিকতার সাথে তাকে জাপটে ধরে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে এসআই আব্দুল লতিফ মিয়ার নেতৃত্বে আমিনপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।জিজ্ঞাসাবাদে আটক দেলোয়ার হোসেন স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত বাতেন ফকির নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে মাটি কাটছিলেন। পুকুর মালিকদের সাথে বাতেন ফকিরের মাটি কাটার চুক্তি রয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, গত সাতদিন ধরে ওই স্থান এবং সংলগ্ন রাস্তা থেকে দেদারসে মাটি কাটা হচ্ছিল, যার ফলে আশেপাশের ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।আইনি বিধান: বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(ছ) ধারা অনুযায়ী ফসলি জমির আশেপাশে থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ৭ এর (ক) ধারার 'গ' উপধারা মোতাবেক, আশেপাশের ফসলি জমির ক্ষতি করে এমন ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা থেকেও মাটি কাটা যাবে না। নিজস্ব জরুরি প্রয়োজনে কাটতে হলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।অভিযোগসমূহ প্রান্তিপ্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী দেলোয়ার হোসেনকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেন। এসময় তিনি বলেন, ফসলি জমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।