মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি ||
নবীনগরে জুতা হাতে বিএনপি সেক্রেটারিকে মারতে তেড়ে গেলেন পদপ্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল!মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গোটা জেলা জুড়ে তোলপাড় ও ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইছে।ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান জুতা হাতে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। গত রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিবদমান বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি এবং পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের জুতা খুলে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি নাজমুল করিমকে মারতে তেড়ে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত কৃষকদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা উভয়কে নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদ প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে গত বছরের ১ জুন ইউনিয়ন সভাপতির ওই শূন্যপদে বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান দলীয় প্যাডে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করলেও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম সাংগঠনিক বিধিমোতাবেক কমিটি না হওয়ায় সেখানে স্বাক্ষর করেননি।এতে সভাপতি প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান সেক্রেটারির ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। দীর্ঘ এক বছর পর গত রবিবার বিকেলে শিবপুরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নাজমুল করিম সেখানে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম বলেন, "দলীয় চিঠিতে উপজেলা সভাপতি স্বাক্ষর করলেও, সাংগঠনিক বিধিমোতাবেক কমিটি না হওয়ায় আমি ওই পদের অনুমোদন দিইনি। এরই জেরে আমার ওপর এই হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে।"অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বলেন, "আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে ঠিকই, তবে জুতা নিয়ে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।"এদিকে এই ঘটনার পর আইনি প্রতিকার ও মামলা দায়েরের জন্য নবীনগর থানায় যান ভুক্তভোগী নেতা নাজমুল করিম। তার অভিযোগ, থানায় তাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও পুলিশ মামলা (এফআইআর) গ্রহণ করেনি এবং কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে থানার সামনে থেকেই নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে যুক্ত হয়ে প্রশাসনের এমন ভূমিকার তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এ বিষয়ে নবীনগর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী মধ্যরাতে গণমাধ্যমকে জানান, "আমি এই মুহূর্তে থানার বাইরে আছি। তবে এই লাঞ্ছনার ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত এজাহার বা অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবীনগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।