অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: ||
গ্রামীণ বন্ধন আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে পটুয়াখালীতে ষষ্ঠ নাইওর উৎসবঅপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল লোকজ ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধনের অনন্য প্রতীক ষষ্ঠ ‘নাইওর উৎসব’। হারিয়ে যেতে বসা বাঙালি সংস্কৃতির এই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘দখিনের কবিয়াল’ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে।শুক্রবার (৬ জুন) সকালে পটুয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল লোকজ সংস্কৃতিনির্ভর নানা অনুষ্ঠান, গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি। উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরীসহ স্থানীয় শিল্পীরা।বাঙালি সমাজব্যবস্থায় ‘নাইওর’ শব্দের গভীর ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যে বিবাহিত কন্যার স্বামীর বাড়ি থেকে কিছুদিনের জন্য বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসাকে ‘নাইওর’ বলা হয়। প্রাচীনকালে যখন যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত ছিল না, তখন গরুর গাড়ি, পালকি কিংবা নৌকায় চড়ে কনেরা বাপের বাড়ি আসতেন। নাইওরকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ মায়েরা ও পাড়া-প্রতিবেশীরা মিলে পিঠা-পুলি তৈরি, গীত ও লোকগানের আসর জমাতেন। এটি ছিল গ্রামীণ নারীর একধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিনোদন। বর্তমানে আধুনিকতা ও যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় এই সুন্দর সামাজিক রীতিটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক সেহাংশু সরকার কুট্টি'র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দখিনের কবিয়ালের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন মানিক। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে তারা বাংলার সেই হারিয়ে যাওয়া যৌথ পরিবারের আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশকে অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছেন, যা বাঙালির শেকড় ও ঐতিহ্যকে নতুন করে জানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।