ইমরান হোসেন যশোর জেলা প্রতিনিধি: ||
টেকসই কৃষি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে কেশবপুরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিতইমরান হোসেন যশোর জেলা প্রতিনিধি: পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত করার লক্ষ্যে কেশবপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’।সোমবার (৮ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুরের আয়োজনে এবং ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন খান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ বুলবুল, এনটিভির প্রতিনিধি ইনামুল হাসান, কৃষক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ও কৃষাণী প্রতিনিধি রেহেনা খাতুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশসম্মত চাষাবাদের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের শুধু উৎপাদক নয়, সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পুষ্টিকেন্দ্রিক কৃষি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছেন। বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে তরুণদের সম্পৃক্ততাও বাড়বে।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও কৃষাণীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুফল সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেন। পরে কৃষি উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।