বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ রাসেল আহমেদ ||
সারা দেশে উদ্যোক্তা বিপ্লবের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসিবিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ রাসেল আহমেদ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি (Beetech World PLC)। যৌথ মূলধনী কোম্পানি (জয়েন্ট স্টক) অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত এই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিটি গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে এবং বহুমুখী ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বৃহৎ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।উদ্যোক্তা তৈরির নতুন মডেল প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একত্রিত করে একটি যৌথ ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বাংলাদেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাংবাদিকদের বলেন "আমাদের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে পুঁজি ও ঝুঁকি ভাগাভাগি করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে লাভের অংশীদারিত্বও নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। ব্যক্তি নয়, সম্মিলিত উদ্যোক্তাদের শক্তিকেই আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।"সুপার শপ প্রকল্পে অগ্রগতি বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি ইতোমধ্যে ‘বিটেক সুপার শপ’ (Beetech Super Shop) প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সারা দেশে ১,০০০টি সুপার শপ স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১০টির বেশি সুপার শপ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং আরও ৫টি শপ চালুর প্রক্রিয়াধীন, যা আগামী মাসের মধ্যে উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নতুন শপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব সুপার শপ শুধু পণ্য বিক্রির কেন্দ্র নয়; বরং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক হাব হিসেবে কাজ করছে।বহুমুখী ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ সুপার শপের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আরও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ফার্মেসি নেটওয়ার্ক বায়িং হাউস ও রপ্তানিমুখী ব্যবসা সরবরাহ ও ডিস্ট্রিবিউশন চেইন অন্যান্য বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রকল্প প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও গ্রাহক—সকলেই অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন।গ্রাহকরাও পাচ্ছেন লাভের সুযোগ বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি'র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে শুধু উদ্যোক্তারাই নয়, সাধারণ গ্রাহকরাও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে লাভবান হতে পারবেন।অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্ভাবনা প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে— ১. নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখবে। ২. গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। ৩. দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি'র দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানিতে পরিণত হওয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসার সম্প্রসারণ নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অর্থনীতিবিদের মতামত এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ফেরদৌস নাহার বলেন,"বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি একটি নতুন ধরনের সমন্বিত ব্যবসায়িক উদ্যোগ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একত্রিত করে বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার এই প্রয়াস সফল হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।"