সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
গরু দিয়ে পাট খাওয়ানো কে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ, আহত ৫সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইঞ্চা চর (গুচ্ছগ্রাম) এলাকায় পাটক্ষেতে গরু ঢুকিয়ে ফসল খাওয়ানো ও নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম (৫০) সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেক্ষিতে রোববার (১৪ জুন) তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইঞ্চা চর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর বেগম ৪৫ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে পাট চাষ করেন। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী মজিদ মিয়া, শাহিন মিয়া, মোতালেব মিয়া, বুলী বেগম, আব্দুল বারেক ও নাজমা বেগমসহ কয়েকজনের গবাদিপশু গরু দিয়ে প্রায়ই তার পাটক্ষেতে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করত। বিষয়টি একাধিকবার তাদের কে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।ভুক্তভোগীর আরও দাবি করেন, সর্বশেষ গরু পাটক্ষেতে প্রবেশ করে ফসল খেয়ে ফেললে তিনি গরুটি খোয়াড়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে গত ৯ জুন ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সরকারি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ঘরে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে হামলায় শাহিনুর বেগম, তার ছেলে লিমন মিয়া, পুত্রবধূ মনিরা বেগম, শাকিল ও মুক্তা বেগম আহত হন। গুরুতর আহত মুক্তা বেগমকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আত্মরক্ষার জন্য লিমন মিয়া বাথরুমে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনে বের করে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় পাটক্ষেতে গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করা হয়। পরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।শাহিনুর বেগমের আরোও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তার পুত্রবধূর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং তার ছেলের ব্যবহৃত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। যাওয়ার সময় তাকে, তার মেয়েকে এবং জামাতা আনোয়ার হোসেনকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান।তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল বারেক ও নাজমা বেগম তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”