সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
সরিষাবাড়ীতে চুরির আতঙ্ক: হাসপাতাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেহাই পাচ্ছে না কেউসরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, গরু, ভ্যানগাড়ি, বৈদ্যুতিক তার, পানির মোটর, ফ্যান, জানালা, নলকূপসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ ঘটনায় চোরদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।সর্বশেষ শনিবার সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ও মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের ৩ নম্বর বেডে ভর্তি জবা খাতুনের এক হাজার ৬০০ টাকা ও মোবাইল ফোনের চার্জার চুরি করা হয়। একই সঙ্গে তার মা রাজিয়ার হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।একই কক্ষের ৪ নম্বর বেডে থাকা রোগী আকলিমা খাতুনের চার হাজার টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাস্ক পরিহিত ওই ব্যক্তি রোগীর স্বজন পরিচয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়।এর আগে গত ১২ জুন বেলা ১১টার দিকে মালিপাড়া বটতলা মাদ্রাসা এলাকা থেকে বেলাল হোসেনের একটি জিকজ্যাক মোটরসাইকেল চুরি হয়। এছাড়া পৌরসভার হাজীবাড়ি এলাকা থেকে স্বর্ণালংকার, উদয় মোড় এলাকার মুস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে বিভিন্ন মালামাল, বলারদিয়ার মধ্যপাড়া জামে মসজিদ থেকে পানির পাম্পের মোটর, রায়দের পাড়ার শুক্কুর আলীর ভ্যানগাড়ি এবং দিয়ার হাটখোলা এলাকার রবিউল ইসলামের একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউসী বাঙালি বিট পুলিশিং কার্যালয়ের জানালা ও ফ্যান, বাউসী বাঙালি উচ্চ বিদ্যালয়ের জানালা, নকশিকাঁথা সেলাই ব্যবসায়ী সুলতান মিয়ার ১০টি চাদর, কয়েলবাড়ি এলাকার রিপনের দুই দফায় চার কয়েল বৈদ্যুতিক তার, আব্দুল কাদেরের নলকূপ এবং বাউসী বাজার এলাকার চন্দনের দুটি গরুও চুরি হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বাউসী পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাম্পের সার্ভিস তার, আন-নূর মডেল মাদ্রাসার আটটি ফ্যান, প্রিপারেটরি স্কুলের দুটি ফ্যান, শহীদ ক্যাডেট স্কুলের দুই দফায় পাঁচটি ফ্যান এবং একটি প্রাইভেট শিক্ষাকেন্দ্রের চারটি ফ্যান চুরির ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।এদিকে সম্প্রতি বাউসী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও চুরির ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটির উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাকিল আহমেদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিলিং ফ্যান, চেয়ার, রোগীর বেড, বর্জ্য রাখার ড্রাম, প্লাস্টিকের বালতি ও বৈদ্যুতিক বাতিসহ প্রায় ৩৫ হাজার ৭০০ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সংঘবদ্ধ চোরচক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং চুরি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, উল্লিখিত চুরির কিছু ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। চুরি প্রতিরোধে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হবে।