মিলন বৈদ্য শুভ, (চট্টগ্রাম) ||
অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গঠনে সমান ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের আহ্বানমিলন বৈদ্য শুভ, (চট্টগ্রাম):- বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রুপসা।বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল ২ টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেটস্থ এশিয়ান এস.আর. হোটেলের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার, অনলাইন ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সংখ্যালঘু ও নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বহুভাষাভিত্তিক নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সহজপ্রাপ্য অভিযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং সংখ্যালঘু ভাষায় নির্বাচনী উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ভোটার নিবন্ধন সেবা সম্প্রসারণ এবং ভৌগোলিকভাবে প্রান্তিক অঞ্চল, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চা-বাগান এলাকায় ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে নারী, দলিত ও জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৃদ্ধিতে স্বেচ্ছা অঙ্গীকার গ্রহণে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সময়মতো, গোপনীয় ও সহজপ্রাপ্য অভিযোগ-প্রতিকার ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে টেকসই সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।সংগঠনটির মতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান ভোটাধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।