মোঃরফিকুল ইসলাম, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ||
ফুলপুরে প্রবাসীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে মানববন্ধনমোঃরফিকুল ইসলাম, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের চক ঢাকিরকান্দা গ্রামে ইরাকপ্রবাসী কেরামত উল্লাহর বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিষ্ঠিত তালেব ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কথিত মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে কেরামত উল্লাহ মোঠো ফোনে জানান, তিনি পাশ্ববর্তী ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি তুলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ওই মাদ্রাসায় এলাকার মানুষ অর্থ, জমি ও অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাই সবাই যেন প্রতিষ্ঠানের সঠিক হিসাব জানতে পারেন, সে দাবিই তিনি করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শহীদুল্লাহ শহীদ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।কেরামত উল্লাহ আরও বলেন, তিনি কোনো মাদ্রাসাকে হেয় বা প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। বরং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের স্বার্থেই হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এলাকায় বসবাস শুরু করার পর দেখেন সেখানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই এবং অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। এ কারণে নিজ উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে নিজের পুরোনো ঘর সংস্কার করে তালেব ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দাবি, বাড়ি নির্মাণের প্রায় দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, তিনি প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।মানববন্ধনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরামুল হক চৌধুরী (পান্না) বলেন, দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি কেরামত উল্লাহকে ভালোভাবেই চেনেন। তাঁর সম্পর্কে কখনো কোনো নেতিবাচক অভিযোগ শোনেননি। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য কেরামত উল্লাহর উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান চেয়ারম্যান।শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শাহনাজ বেগম বলেন, এলাকায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় কেরামত উল্লাহ নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। সেখানে নামমাত্র বেতনে তাঁদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষক রয়েছেন এবং শিক্ষার মানও সন্তোষজনক। তিনি বলেন, অপপ্রচারের কারণে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা। তাই এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, কেরামত উল্লাহ একজন সৎ ও মানবিক ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। কেউ বিপদে পড়লে বিদেশে থেকেও আর্থিক সহায়তা পাঠান। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।এ বিষয়ে শহীদুল্লাহ শহীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।