প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
ডিমলায় ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা: মাদ্রাসা প্রধানকে গণধোলাই
হাবিবুর রহমান উপজেলা ডিমলা (নীলফামারী) ||
ডিমলায় ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা: মাদ্রাসা প্রধানকে গণধোলাই হাবিবুর রহমান উপজেলা ডিমলা (নীলফামারী) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গতকাল রাতে টুনিরহাট এলাকায় গভীর রাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে টুনির হাট মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।গত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে টুনিরহাটে মেয়ের বাড়ির সামনে মাইক্রো নিয়ে মেয়েকে তুলে নিতে আসলে এলকাবাসি তাকে আটক করে । আটককৃত শিক্ষকের হলেন আব্দুস সালাম (৪৫) । তিনি স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের ঘরে ইতিপূর্বেই দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি তার মাদ্রাসার ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সাথে দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষকের দ্বিতীয় স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেয়ে মাদ্রাসা কমিটিকে অবহিত করলে কমিটি সাময়িকভাবে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেয়।এর কিছুদিন পর ওই শিক্ষক ছাত্রীটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।জেল থেকে ফিরেই পুনরায় অপহরণের চেষ্টা এলাকাবাসী জানান, গতকালই ওই শিক্ষক আদালত থেকে জামিনে বা জেল থেকে ছাড়া পান। মুক্ত হওয়ার পরপরই গত রাত তিনটার দিকে তিনি আবারো ওই ছাত্রীর সাথে দেখা করতে যান এবং তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাকে হাতেনাতে আটক করে।উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয় ৪নং ন খগা খড়িবাড়ি ইউনিয়নে পরিষদে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাবালিকা ছাত্রীটি বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ৪৫ বছর বয়সী একজন শিক্ষক হয়ে নিজের ঘরে দুই স্ত্রী থাকার পরেও কীভাবে ১৭ বছরের একটি মেয়ের জীবন ধ্বংস করলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা এই লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ডিমলা থানা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ