পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ ||
আটকের পর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সালিশ; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ ও অটো নেওয়ার অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের দাবি ‘জরিমানা নয়, অটো ফেরত চাই’পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নে অটোচুরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে জেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে নিয়ে গেলে সেখানে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটক ব্যক্তি প্রকাশ্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চুরি হওয়া অটো ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) পঞ্চগড় শহরের বানিয়াপট্টি এলাকায় অবস্থিত অটোবাইক চালক শাখা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। আটক ব্যক্তি হাড়িভাসা ইউনিয়নের সাহেববাজার এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে বাপ্পা রাজ। উপস্থিত সবার সামনে তিনি দাবি করেন, তিনি দুটি অটো চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি চুরি হওয়া অটো স্থানীয় ইউপি সদস্য রনকি প্রধান নিয়ে গেছেন এবং অটোর ব্যাটারি বিক্রির ২০ হাজার টাকাও তাকে দিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রনকি প্রধান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন।জেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর ইসলাম জানান, গত দুই দিনে পৃথক দুটি অভিযানে অটোচুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পরে ইউনিয়ন কার্যালয়ে আলোচনার সময় সিদ্ধান্ত হয়, আটক বাপ্পা রাজ এক লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল লিখে দেবেন, একটি সাদা চেকে স্বাক্ষর করবেন এবং ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। একই সঙ্গে ইউপি সদস্য রনকি প্রধান ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।তবে অটোবাইক চালক শাখা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের জন্য জরিমানার টাকা নয়, চুরি হওয়া অটোর পরিবর্তে অটো ফেরত বা সমমূল্যের অটো নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের শ্রমিক ইউনিয়নের হেফাজতেই রাখা হয়েছে।