মোহন আলী স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া জেলা। ||
ভেড়ামারায় বিএনপি নেতা নাসিরুলকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা।মোহন আলী স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া জেলা।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরবর্তী বালুমহালের আধিপত্য ও কোন্দলের জেরে নাসিরুল উদ্দিন বিশ্বাস (৪৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে পিস্তল দিয়ে গুলি ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে জখম করে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। উক্ত ঘটনার পর ভিকটিমের পুত্র মাহাফুজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহার নামীয় আসামীদের মধ্যে প্রায় সবাই এখনো পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে ভিকটিমের স্বজনেরা। ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, গত ৫ জুলাই বিকেলে ভেড়ামারা থানাধীন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন চর রূপপুর (১৬ দাগ বালুঘাট) এলাকায় উক্ত ঘটনায় আহত নাসিরুল বিশ্বাস বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় একজন প্রতিষ্ঠিত বালু ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার স্ত্রী মুন্নি খাতুন বাহিরচর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক মেম্বার ।এই হামলায় আব্দুর রাজ্জাক বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহত হয়েছেন। নাসিরুল বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন চরাঞ্চলের তড়িয়া মহল বালুমহালের আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ শত্রুতার জের ধরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।ভেড়ামারার স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, চরাঞ্চলের বালুঘাটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে । ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, হামলার সময় অধিকাংশ আসামি মুখোশ পরা অবস্থায় ছিল। প্রথমে তারা নাসিরুলকে লাঠি বাটাম লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এরপরে বাম পায়ে ও পিঠে দুটো গুলি করে।নাসিরুল জানায় তার সাথে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনিরুজ্জামান জুয়েল ও যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোখলেছুর রহমান সবুজের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরা নাসিরুলের কাছে টাকা দাবি করে আসছে কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার উপরে হামলা করেছে বলে সে মনে করে। সে দ্রুত এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেফতার দাবী করেন।এদিকে মামলার আসামি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান জুয়েল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন মর্মে দাবি করেন। এদিকে মামলার এজাহার নামীয় আসামি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোখলেসুর রহমান সবুজও একই দাবি করেছেন এবং তিনি বলেছেন নাসিরুলের সাথে তার কোন বিরোধ নেই।প্রতিপক্ষের রাজনীতির গ্রুপিংয়ের কারণে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।