মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ||
বালাসী ঘাটের দক্ষিণে নদীভাঙন: সর্বস্ব হারিয়ে পথে মানুষ, শুরু হচ্ছে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজমোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:- গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসী ঘাটের দক্ষিণ পাশে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়। নদীর প্রবল স্রোতে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ ভূমি, বসতভিটা, কৃষিজমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার বাড়িঘর, আসবাবপত্র, গবাদিপশুসহ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের সময় অন্তত ছয়টি গরু পানিতে ডুবে মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কয়েক লক্ষ টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। আকস্মিক এই ভাঙনে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এলাকাজুড়ে এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।নদীভাঙনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত বালাসী ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কিলোমিটার ৬৭.৩০০ থেকে ৬৭.৩৪০ পর্যন্ত মোট ৪০ মিটার এলাকায় আপৎকালীন তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।তবে স্থানীয়দের মতে, যেখানে নদীভাঙন ইতোমধ্যে দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে, সেখানে মাত্র ৪০ মিটার এলাকায় আপৎকালীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত একটি স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হোক, যাতে প্রতিবছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে মানুষের সর্বস্ব হারানোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং বালাসী ঘাটসহ আশপাশের জনপদ স্থায়ী সুরক্ষা পায়।