মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি ||
নবীনগরে মানষিক হতাশা ও একাকিত্বে বৃদ্ধের আত্মহত্যামোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মানষিক হতাশা ও একাকিত্বের কারণে চালের পোঁকা দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক ট্যাবলেট(কেরির বড়ি) সেবন করে মো. লিল মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।সোমবার (১৩ জুলাই) ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত লিল মিয়া নবীনগর উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের ইমামবাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত কিনু মিয়ার ছেলে। লিল মিয়ার পরিবারে চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আলাদা সংসার করলেও তিনি দুই ছেলে মনিরুল ও আমিনুল ইসলাম এবং প্রতিবন্ধী ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে মানসিক হতাশা ও একাকিত্বের কারন থেকে তিনি চালের পোঁকা দমনে ব্যবহৃত একটি কীটনাশক ট্যাবলেট (কেরিরর বড়ি) সেবন করেন। পরে লিল মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলেরা প্রথমে তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।নিহতের ছোট ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে তার মা শামসুন্নাহার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকেই তার বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একাকিত্বে ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে তার বাবা স্ট্রোকে করেছিলেন। যদিও আমাদের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক ভালো ছিল, তবুও দীর্ঘদিন ধরে বাবা নানা দুশ্চিন্তা ও মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পরিবারের কারও জানা নেই।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কীটনাশক ট্যাবলেট সেবনের ঘটনায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং বিষয়টি নবীনগর থানাকে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বৃদ্ধের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।