মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর ||
আল আরাফ হাসপাতাল সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের হাত ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের হাত ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই এবং কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৪ জুলাই) শ্রীপুর উপজেলার রেলগেট এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসকদের পরামর্শে নবজাতকের এক্স-রে করা হলে তার ডান হাতের বাহুর হাড় ভাঙ্গা রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।নবজাতকের স্বজনদের ভাষ্য, এক্স-রের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের সময় মনিটরেই হাড় ভাঙ্গার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তাদের অভিযোগ, শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানায়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে।ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি ও অবস) ডা. কুহু মুৎসুদী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা মোহনা এবং কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মোহাম্মদ শরীফ হোসেন।কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ বিষয়ে হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুজ্জামান বলেন, জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে বিরল হলেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তার দাবি, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। এরপরও জটিলতা দেখা দেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও তিনি জানান।শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসকও অভিজ্ঞ। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।