জি এম তরিকুল ইসলাম ||
কয়রায় শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের ভবন ধসে পাঠদানে অনিশ্চয়তা১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনার কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উপকূলের অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার ভবনটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ও পিলারে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছিল পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছিল রড। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পড়ত পানি। পাশের একতলা ভবনে কলেজ শাখার ক্লাস হয়।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার জানান, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ওই সময় শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেউ ভবনে ছিলেন না। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে দুইতলা একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হয়। আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হওয়ায় ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে সেখানে পাঠদান চলতে থাকে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, মাধ্যমিকে তাদের ২৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, শিক্ষক ১৯ জন এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। স্কুল শাখার ভবন ধসে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবারই ভোগান্তি হবে।কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কয়রার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে।প্রকল্পটি মূলত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হলেও এলাকার মাটির স্তর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে।খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানান, কয়রার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণেরও বরাদ্দ রয়েছে।ধনঞ্জয় বলেন, তবে এখনো কার্যাদেশ জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে।