শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার ||
মাঠে ‘১৯’ এর চমক, উদযাপনে ‘৩০৪’—কে এই ইয়ামাল?শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার:- স্পেনের বিশ্বকাঁপানো তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালকে (Lamine Yamal) নিয়ে ফুটবল বিশ্বজুড়ে যে জাদুকরি ‘১৯’ সংখ্যার উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের গল্প ঠিক ততটাই বৈচিত্র্যময় ও অনুপ্রেরণাদায়ক। ফুটবল মাঠে তার পায়ের জাদু ইতিমধ্যেই পুরো বিশ্বকে মোহিত করেছে। বয়স বাড়ার আগেই ভেঙে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড। তিনি আর কেউ নন, স্পেনের তরুণ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। তবে মাঠের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সম্প্রতি এই ফুটবলারকে ঘিরে এক অবিশ্বাস্য গাণিতিক সমীকরণ বা কাকতালীয় ঘটনা ফুটবল দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভক্তরা একে বলছেন ‘নাম্বার ১৯’-এর এক অদ্ভুত সংযোগ!‘নাম্বার ১৯’-এর জাদুকরি ত্রিমাত্রিক সমীকরণ, ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়া এই জাদুকরি সমীকরণের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি বিশেষ ‘১৯’।১৯ বছর বয়স: অতি সম্প্রতি নিজের জীবনের বসন্তকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে ১৯ বছর বয়সে পা দিয়েছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। ১৯ নম্বর জার্সি: বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে আসার পর স্পেনের জাতীয় দলের জার্সিতে তার পিঠে শোভা পাচ্ছে ‘১৯’ নম্বরটি।১৯ তারিখে ট্রফি জয়: কাকতালীয়ভাবে, তিনি স্পেনের হয়ে যে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ট্রফি জয় করেছেন, সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ক্যালেন্ডারের পাতায় ছিল ঠিক ১৯ তারিখ!ফুটবল ইতিহাসে এমন কাকতালীয় ঘটনা বিরল। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করছেন, "১৯ নম্বর জার্সি আর ১৯ বছর বয়সের এই তরুণ ১৯ তারিখেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে যেন এক রূপকথার গল্প লিখলেন।মাঠের এই জাদুকরি সংখ্যার বাইরে লামিন ইয়ামালের (পুরো নাম: লামিন ইয়ামাল নাসরাউই ইবানা) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন এক চরম সংগ্রামের গল্প। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্পেনের বার্সেলোনার মাতারো (Mataró) শহরের একটি নিম্নবিত্ত অভিবাসী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর নাগরিক এবং মা শিলা ইবানা বিষুবীয় গিনির নাগরিক। ইয়ামাল যখন খুব ছোট, তখনই তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে পারিবারিক সূত্রেই তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং একজন মুসলিম হিসেবে অত্যন্ত বিনয়ী জীবনযাপন করেন।ইয়ামালের শৈশবের সিংহভাগ সময় কেটেছে বার্সেলোনার ‘রকাফন্ডা’ (Rocafonda) নামক একটি পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়। আজ বিশ্বমঞ্চে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও তিনি তার শিকড়কে ভুলে যাননি। গোল করার পর ইয়ামাল তার দুই হাতের আঙুল দিয়ে যে '৩, ০, ৪' সংখ্যাটি প্রদর্শন করেন, তা মূলত রকাফন্ডার পোস্টাল কোডের (08304) শেষ তিন ডিজিট। নিজের অবহেলিত এলাকাকে সম্মানিত করতেই তিনি এই বিশেষ উদযাপন করেন।ইয়ামালের ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে তার বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। মাত্র ৭ বছর বয়সে তার বাবাই তাকে বার্সেলোনার বিখ্যাত 'লা মাসিয়া' একাডেমির নজরে আনেন। সম্প্রতি ২০০৭ সালের একটি ঐতিহাসিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি মাত্র কয়েক মাস বয়সী শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন। আজ ফুটবল বিশ্বে অনেকেই এটিকে মেসির কাছ থেকে ইয়ামালের "ঐশ্বরিক আশীর্বাদ" পাওয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন।ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যাটি কেবলই একটি কাকতালীয় সমীকরণ হতে পারে, তবে লামিন ইয়ামাল যেভাবে ফুটবলের প্রতিটি ধাপে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিচ্ছেন, তাতে সংখ্যা নয়—তার লড়াকু পারিবারিক অতীত এবং অনন্য প্রতিভাই তাকে ফুটবলের নতুন যুবরাজে পরিণত করে