জিসান কবিরাজ, খুলনা ||
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য নিয়ে হাজির খুলনার জুলাই কন্যারাজিসান কবিরাজ, খুলনা।চাল-ডাল-ওষুধসহ জরুরি সামগ্রী বিতরণ, বিশেষ পরিবার ও মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তাপ্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা ও মারাত্মক জনদুর্ভোগ। পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজারো মানুষ। এমন দুর্যোগ মুহূর্তে দূর খুলনা থেকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বানভাসি মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন খুলনার ‘জুলাই কন্যা’ হিসেবে পরিচিত শামসুন্নাহার নিশি ও তাঁর সহযোদ্ধা হাফসা। আজ সোমবার (২০ জুলাই) বাঁশখালীর প্লাবিত এলাকার ১ হাজার জলমগ্ন পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, ওষুধপত্র এবং নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তারা।এই মানবিক উদ্যোগটি বাস্তবায়নে গতকাল রবিবার রাতেই খুলনা থেকে ত্রাণসামগ্রীর বিশাল চালান নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন নিশি ও হাফসা। দীর্ঘ রাতের সফর ও ক্লান্তি উপেক্ষা করে আজ সকালে তারা পৌঁছান বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত নিচু অঞ্চলগুলোতে। চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে কাদাপথ পেরিয়ে প্লাবিত গ্রামগুলোতে ঘুরে ঘুরে দুর্গত মানুষের হাতে তুলে দেন চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সয়াবিন তেল, মুড়ি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং খাবার স্যালাইন। একই সঙ্গে নারীদের জন্য ব্যক্তিগত জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। এর বাইরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু অসহায় পরিবার এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি মাদ্রাসায় নগদ আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেন তারা।টানা বৃষ্টিতে বাঁশখালীর বহু পরিবারে চুলা জ্বালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ত্রাণের প্যাকেটগুলো জলমগ্ন মানুষের মাঝে এক বিরাট স্বস্তি নিয়ে আসে। খুলনা থেকে আসা এই হঠাৎ সহায়তায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। ত্রাণ পাওয়া এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পানিবন্দী হয়ে আমরা চরম বিপদে ছিলাম। এত দূর থেকে এসে যেভাবে চাল-ডাল, ওষুধ আর আর্থিক সাহায্য দিয়ে এই দুই বোন পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলব না।নিজের সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে ‘জুলাই কন্যা’ শামসুন্নাহার নিশি ও হাফসা জানান, ভৌগোলিক সীমানা দিয়ে মানুষের আর্তনাদকে আটকে রাখা যায় না। চট্টগ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে আর আমরা দূরে বসে দেখব, তা হতে পারে না। সেই দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকেই দ্রুত ত্রাণ এবং নগদ সহায়তা নিয়ে খুলনা থেকে ছুটে আসা। দুর্দিনে তরুণেরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে যে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব, নিশি ও হাফসার এই সময়োপযোগী উদ্যোগ তা আরও একবার প্রমাণ করল।