মোঃ রাসেল আহমেদ নেত্রকোনা প্রতিনিধি ||
নেত্রকোনার আটপাড়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত চলছেমোঃ রাসেল আহমেদ নেত্রকোনা প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার অর্থ ফেরত যাওয়া এবং বিদ্যালয়গুলোর ইন্টারনেট বিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ১৩ জুলাই সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তিনি গত ১৬ জুলাই আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।অভিযোগে বলা হয়, সারাদেশের মতো আটপাড়া উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটির জন্য ইন্টারনেট বাবদ ৬ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা না দিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই সেই অর্থ উত্তোলন করেন। পরে শিক্ষকরা ইন্টারনেট ভাতার টাকা চাইলে ভ্যাট ও আয়কর (ভ্যাট-আইটি) কেটে নেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে শিক্ষকদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতাও সময়মতো বিতরণ না হওয়ায় বরাদ্দের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলায় মোট ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতি অর্থবছরের মতো ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বিদ্যালয়গুলোতে স্লিপের অর্থ এবং কয়েকটি বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার পর ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলনের বিধান রয়েছে। একইভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা বাবদ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়। তবে উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এ ভাতা পান না।অভিযোগকারী দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী বলেন, “অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী স্লিপের টাকা ও ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট ব্যাংকে জমা দিয়েছি। কিন্তু ইন্টারনেট ভাতার টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের না জানিয়ে উত্তোলন করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি ভ্যাট-আইটি কর্তনের কথা বলেন। এছাড়া একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার অর্থেও অনিয়ম করা হয়েছে।”তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, “বিলম্ব হওয়ায় ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট আগে জমা দিতে হয়েছিল। পরে ভাতার টাকা উত্তোলন করে শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে। এখনও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে আমার প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।যাতায়াত ভাতার বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে ভাতার অর্থ ফেরত গেছে। এখানে আমার কোনো অবহেলা নেই।”তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছি। বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারিনি। প্রশিক্ষণ শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”