মো. আলামিন হোসেন, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
তাড়াশে দুই কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থা, হাঁটুসমান কাদায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীমো. আলামিন হোসেন, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:- সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৫ নম্বর নওগাঁ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাস নিলি গ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক দুটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে থাকে এবং কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিদাস নিলি দক্ষিণপাড়া পাকা সড়কের মাথা থেকে কালিদাস নিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এবং সেখান থেকে মঙ্গলবাড়িয়া পাকা সড়কের মাথা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদা ও পানিতে ঢেকে যায়। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিয়াম হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসেন ও মো. নাদিম হোসেন বলেন, “গত এক যুগে এই সড়কের কোনো সংস্কার হতে দেখিনি। প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমাদের জীবদ্দশায় এই রাস্তার উন্নয়ন হবে কি না, সেটিও জানি না।এলাকাবাসী জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কাদার কারণে প্রায়ই মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন আটকে যায়। অনেক সময় পথচারীরা পা পিছলে পড়ে আহত হন।বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ কোনো যানবাহন সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হলেও সড়ক দুটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে ৫ নম্বর নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এ মুহূর্তে কোনো সরকারি বাজেট নেই। তাছাড়া এই সড়কের কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরাসরি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তার কিছু অংশ ইতোমধ্যে পাকা করা হয়েছে। বাকি অংশও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আইনগত জটিলতা নিরসন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক দুটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, সড়ক দুটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।