আখলাক হুসাইন সিলেট জেলা প্রতিনিধি ||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে খেলাফত মজলিসের সমাবেশআখলাক হুসাইন সিলেট জেলা প্রতিনিধি:- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, শাপলা ও জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, “বিগত সময়ে সিলেটের সঙ্গে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। যার ফলে উন্নয়নের প্রায় সব সূচকেই সিলেট পিছিয়ে পড়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া। অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে সিলেটবাসী আর কোনো বৈষম্য মেনে নেবে না।”তিনি ঢাকা-সিলেট রেললাইন আধুনিকায়ন, ছয় লেনের মহাসড়ক দ্রুত সম্পন্ন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্প্রসারণ এবং সিলেটের গ্যাস দিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের আবাসিক চাহিদা পূরণের দাবি জানান। তিনি বলেন, “প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সেই সিলেট উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে সিলেটের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়া। আমরা যদি এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হই, তবে তা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, “দেশের প্রায় ত্রিশটি রাজনৈতিক দল সর্বসম্মতিক্রমে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটের মাধ্যমে যা অনুমোদিত হয়েছে, তার বাস্তবায়নে বিলম্ব করা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে এ সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।”সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শিব্বির আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সমাবেশ শেষে একটি বৃহৎ গণমিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাপ্ত হয়।