মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ||
অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশুর নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহ, প্রতিবেদন মিললেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থামোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এবার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল।তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোনা আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে থাকা নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই আদালত নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকায় না এনে সিলেটের সেফ হোম থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর নমুনা সংগ্রহ করেন।তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান জানান, গত ২ জুলাই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বর্তমানে মামলার অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর কারাগারে রয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন, যার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।পরে ৭ মে আদালত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তার মায়ের আবেদনের পর গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই রয়েছে।