শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বৃষ্টির অজুহাতে দোহার ও নবাবগঞ্জে সবজির বাজারে উত্তাপশহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার:- ক্রিকেট ইতিহাসের টেস্ট ইনিংসে ব্রায়ান লারার ঐতিহাসিক ৪০০ রানের অপরাজিত রেকর্ডের কথা বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের সবার জানা। কিন্তু খেলার মাঠের সেই অভাবনীয় মাইলফলক এবার যেন অনায়াসেই ডিঙিয়ে গেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারের কাঁচা মরিচ! সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি কিংবা ট্রিপল সেঞ্চুরির সীমানা পেরিয়ে ঢাকা রাজধানী উপকন্ঠের বাজার গুলোতে কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। কেবল কাঁচা মরিচই নয়, এর সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ সবজির দামও পৌঁছে গেছে আমজনতার নাগালের একেবারেই বাইরে। আজ দোহার ও নবাবগঞ্জে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ মরিচের বাজারে যেন বাড়তি উত্তাপ। দু-তিন দিন আগেও যা চারশ টাকার নিচে-উপরে উঠানামা করছিল, গতকাল থেকে তা কেজিপ্রতি ৪০০-৪২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। রান্নায় সামান্য ঝাল দিতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর পকেটে বড় ধরনের টান পড়ছে।কাঁচা মরিচের এই রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের সবজির বাজারেই চলছে চড়া দামের দাপট। ১০০ টাকার নিচে মিলছে না বললেই চলে কোনো সবজি। আজকের বাজারদরে দেখা যায়, লম্বা বেগুন: প্রতি কেজি বিক্রেতারা হাঁকাচ্ছেন ১৪০ টাকা। পটল ও করলা: সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পছন্দের তালিকায় থাকা এ দুটি সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। বরবটি: পুষ্টিকর এই সবজি কিনতে প্রতি কেজিতে গুণতে হচ্ছে ১৪০ টাকা। গাজর: ১৫০ টাকায়। ধুন্দুল: তুলনামূলক সহজলভ্য বলে পরিচিত ধুন্দুল বিকাচ্ছেন ৮০ টাকা কেজি দরে। ঝিঙে ও চিচিঙ্গা: বাজারে আজকের কিছুটা কমদামি সবজির তালিকায় থাকা এ দুটি পণ্যের দামও ঠেকেছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায়।হঠাৎ করে কেন সবজির বাজারে এমন অগ্নিমূল্য?—প্রশ্নের জবাবে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা আঙুল তুলছেন বৈরী আবহাওয়ার দিকে। দোহারের পালামগঞ্জ বাজারে জনৈক খুচরা বিক্রেতা জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবজির ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় পচন ধরেছে। এছাড়া পরিবহন জটিলতা ও আড়তে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।এদিকে বাজারে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে, সামান্য বৃষ্টি হলেই অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেয়। বান্দুরা বাজারের এক ক্রেতা আব্দুল হালিম হতাশ প্রকাশ করে বলেন, "সবজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে দৈনিক বাজেট পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে। মাছ-মাংসের কথা তো ছেড়েই দিলাম, এখন সাধারণ বেগুন-পটল কিংবা কাঁচা মরিচ কিনে খাওয়াও বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বাজারে এমন অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি রুখতে এবং বাজারে আসলেই সরবরাহের ঘাটতি নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি চলছে—তা তদারকি করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সাধারণ মানুষ।