মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ||
খালিয়াজুরীতে বৈধ ইজারা সত্ত্বেও ইজারাদারের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগমোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারিভাবে বৈধ ইজারাকৃত 'ধরুন্দার খাল' দখল করে বেআইনিভাবে মাছ ধরা ও শামুক তোলায় বাঁধা দেওয়ায় ইজারাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও নূরপুর বোয়ালী মৌজায় অবস্থিত ধরুন্দার খাল, লাচুয়ানির খাল ও নয়ার খাল ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ক্যাশ কালেকশনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। এই ইজারা পান মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল চালানের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত অর্থ ব্যাংকে জমা দেন তিনি।কিন্তু ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একই গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ইজারাকৃত খালটি দখল করে অবৈধভাবে মাছ ও শামুক ধরার চেষ্টা করে আসছিল। এতে ইজারাদার ও তার লোকজন বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ওই গ্রামের মো. ওয়ালিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে খাল দখল ও চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তুলে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।সরেজমিনে ধরুন্দা খাল ও সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় ৮-১০ জন বাসিন্দা ও শামুক সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান,অভিযোগকারীদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ইজারাকৃত জায়গা থেকে বেআইনি মাছ ও শামুক তোলায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েই ইজারাদারের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।অভিযোগকারী ওয়ালিদ মিয়ার মুখোমুখি ইজারাদার সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে দাঁড় করিয়ে চাঁদা দাবির সত্যতা জানতে চাওয়া হলে ওয়ালিদ মিয়া স্বীকার করেন, "এই লোক আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি।" তবে সত্য গোপন করে কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। এমনকি খালের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এই অভিযোগ, সে বিষয়েও তিনি চুপ ছিলেন।ইজারাদার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, "খালটি ইজারা নেওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জোরপূর্বক মাছ ও শামুক ধরার চেষ্টা করছিল। এতে বাধা দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে এই হীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।