এস এফ সুমন আহমদ, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
দোয়ারাবাজারে ফেক আইডির তাণ্ডব অপপ্রচারে বিপন্ন জনজীবন, দিশেহারা ভুক্তভোগীরাসুমন আহমদ, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:- সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া বা ফেক আইডির অপব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নাম-পরিচয়হীন এসব আইডি ব্যবহার করে সমাজসেবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে চরিত্রহনন ও কুৎসিত অপপ্রচার। এতে করে সাধারণ মানুষের পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে মারাত্মক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। সাইবার অপরাধীদের এই তাণ্ডবে এখন দিশেহারা সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার বাসিন্দারা।নামে-বেনামে সাইবার হামলা ও ব্ল্যাকমেইলিং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সক্রিয় একাধিক অসাধু চক্র ব্যক্তিগত শত্রুতা ও নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনামে অসংখ্য ফেক আইডি খুলে রেখেছে। এসব আইডি থেকে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ছবি বিকৃত করে (ফটোশপ ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে) বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। শুধু সর্বসাধারণের জন্য পোস্ট দেওয়া নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির ছবি ও গোপনীয় তথ্য ইনবক্সে পাঠিয়ে অর্থ দাবি (ব্ল্যাকমেইলিং) করার মতো অপরাধও অহরহ ঘটছে।ভুক্তভোগীদের অনেকেই জানান, লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে দ্বিধাবোধ করেন। আর ভুক্তভোগীদের এই নীরবতাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছ অপরাধীরা, যা তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন রূপ এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এই চক্রগুলো এখন ব্যবহার করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)।মোঃ সাকিল আহমেদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মেয়েদের ছবি ও কণ্ঠস্বর বিকৃত করে অশালীন পোস্ট ও ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তির সামাজিক মানসম্মান নষ্ট করছে না, বরং অনেক পরিবারে ভাঙন ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে। আমরা তরুণ সমাজ আজ সত্যি অতিষ্ঠ।অন্য এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার অজান্তেই ফেসবুক থেকে ছবি নিয়ে একটি ফেক আইডি খোলা হয়। সেখানে আমার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হচ্ছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ফেক আইডিগুলোর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা প্রযুক্তির কারণে কিছুটা জটিল হলেও পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।সাইবার নিরাপত্তা একজনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্যে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা অনুচিত। কোনো তথ্য সত্য কি না তা যাচাই না করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি অপরিচিত যেকোনো আইডি থেকে আসা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।এদিকে দোয়ারাবাজারের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজ দ্রুত এসব ফেক আইডির মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে এই সামাজিক ব্যাধি পুরো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি-শৃঙ্খলাকে আরও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।