আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি , কুড়িগ্রাম ||
পূর্বনির্ধারিত স্থানেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধনপ্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: ০৩.০৮.২০২৬ খ্রি. কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বনির্ধারিত স্থান নালিয়ারদোলায় নির্মাণের দাবিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের আমিন বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নালিয়ারদোলাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন একটি পক্ষ ক্যাম্পাস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।মানববন্ধনে স্থানীয় শিক্ষক নুরনবী সরকার বলেন, 'কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান নালিয়ারদোলা। এখানে পর্যাপ্ত খাসজমি রয়েছে। মীমাংসিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ না করে কেউ কেউ নিজ নিজ এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই, পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে দ্রুত নালিয়ারদোলায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হোক।নারী নেত্রী মেরিনা আক্তার বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নালিয়ারদোলা নির্বাচন করে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনীতি শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।'তিনি আরও বলেন, একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হলেও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থান নির্বাচন-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত পূর্বনির্ধারিত স্থানে ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু না হলে নালিয়ারদোলাবাসী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেবেন।আবৃত্তিশিক্ষক আবদুর রশীদ বলেন, জেলার প্রায় সব উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় নালিয়ারদোলা যোগাযোগের দিক থেকে সুবিধাজনক। সড়ক, রেল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গেও এ এলাকার যোগাযোগ রয়েছে। তাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান তিনি।জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কারিগরি কমিটির সুপারিশে সদর উপজেলার নালিয়ারদোলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেখানে প্রায় ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগও নেয় জেলা প্রশাসন। তবে বিভিন্ন মহলের টানাপোড়েনে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। বর্তমানে জেলা শহরের ভোকেশনাল মোড় এলাকার দুটি ভাড়া ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে মানববন্ধন শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।