মো: ইলিয়াছ মিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ||
চবিতে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জাতীয় স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যের ডাক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:- দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সব মত ও পথ ভুলে এক কাতারে দাঁড়ানোর আকুল আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে। ২৪-এর আন্দোলনে সব পেশার মানুষ একসঙ্গে রক্ত দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা দায়বদ্ধ। তাই গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ও জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ন্যায়বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করা হবে।"অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শহীদ ফরহাদ ও তরুয়াসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আবাসন সংকট নিরসনসহ চবিকে বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।অনুষ্ঠানের সভাপতি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বিশ্ব ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে জুলাই অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম অতীতে ভোটের অধিকার হরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ইতিহাস টেনে গণঅভ্যুত্থানের পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করেন।ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জেরীন চৌধুরী ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন।অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় শহীদ তরুয়া ও শহীদ ফরহাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে। শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান এবং প্রধান অতিথিকে বিশেষ স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চাকসুর প্রতিনিধি এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের শীর্ষনেতারা।এর আগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্মরণ চত্বরে' উপাচার্য ড. আল্-ফোরকান বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালির উদ্বোধন করেন। দিনভর পরিবেশিত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি, বিশেষ নাটক 'তিনি আসছেন', দেশাত্মবোধক গান এবং ব্যান্ড দল 'সরলা'র পরিবেশনা। সমগ্র আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়।