শাহিনুর রহমান পঞ্চগড় প্রতিনিধি ||
গলায় আঘাত, এমসিতে ‘ইনজুরি’ নেই; জামিনের পর বাদীকে হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মাথায় রক্তাক্ত কাটা জখম, দিতে হয়েছে ৮টি সেলাই। অথচ চিকিৎসা শেষে মেডিকেল সার্টিফিকেটে সেই গুরুতর আঘাতকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সিম্পল ইনজুরি’ হিসেবে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীর মেয়ের গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তার মেডিকেল সার্টিফিকেটে কোনো ইনজুরিই উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মজিবর রহমান নামের ভুক্তভোগী।তার দাবি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও বিতর্কিত মেডিকেল সার্টিফিকেটের সুযোগ নিয়ে মামলার আসামিরা জামিন পেয়েছেন। জামিনের পর এখন তারা মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মজিবর রহমান। তিনি ইউনিয়নের পাহাড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মজিবর রহমান বলেন, গত ৩ জুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি, তার স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়ে আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের আব্দুস কুদ্দুস এবং তার ছেলে আলম হোসেনসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।মজিবর রহমানের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ তার মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে।মজিবর রহমান দাবি, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় রক্তাক্ত কাটা জখম হয় এবং সেখানে আটটি সেলাই দিতে হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও গুরুতর আঘাত পান। অথচ চিকিৎসা শেষে দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে তার মতো গুরুতর আঘাতকেও ‘Simple Injury’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য- “মাথায় রক্তাক্ত কাটা জখম, আটটি সেলাই দেওয়ার পরও যদি সেটি সিম্পল ইনজুরি হয়, তাহলে একজন আহত মানুষের জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?”এদিকে তার মেয়ের গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও মেডিকেল সার্টিফিকেটে সেই আঘাতের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি মেয়ের ক্ষেত্রে ‘সিম্পল ইনজুরি’ও উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান তিনি।তিনি দাবি করেন, আহতদের প্রকৃত জখমের চিত্র মেডিকেল সার্টিফিকেটে যথাযথভাবে উঠে আসেনি। এতে মামলার প্রকৃত ঘটনা আদালতে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাদীপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসামিরা ওই মেডিকেল সার্টিফিকেটের সুযোগ নিয়ে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মজিবর রহমান আরও বলেন, গত ৪ আগস্ট মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হন। এরপর থেকেই তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপসহ বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।তিনি বলেন, “যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, তারা জামিনে বের হয়ে এখন আমাদেরই ভয় দেখাচ্ছে। আমরা নিজের বাড়িতেও নিরাপদ বোধ করছি না। আবার হামলা হতে পারে, এমন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”মামলার বাদীর অভিযোগ, একদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যকর তৎপরতা নেই, অন্যদিকে গুরুতর আঘাতের পরও মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতের সঠিক বিবরণ না থাকায় আসামিরা জামিন পেয়েছেন। এর পর আবার জামিনে বেরিয়ে বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত।বিতর্কিত এমসির ব্যাপারে কথা বলতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।