এম এ হোসেন পাটোয়ারী রংপুর পীরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি ||
পুলিশের পোশাকে "বাবা", ছাদ থেকে ফেলে খুন প্রেমিকের মামাকেরংপুরের পীরগাছার এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে ঢাকার সাভারে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মনোয়ারুল বকসি। পরিবারের অভিযোগ, পীরগাছা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এবং পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেওয়া কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু তাঁকে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। শনিবার নিহতের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কফিন নিয়ে থানা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার মোংলাকুটি উজানপাড়া এলাকার শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে একই এলাকার ১৫ বছর বয়সী মিমি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় সম্প্রতি দুজন একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু। জিডির সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল ঢাকার সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টুও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর গায়ে ছিল পুলিশের পোশাক। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রেমিক সৌমিকের মামা মনোয়ারুল বকসিকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম মিন্টুর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একজন সাধারণ নাগরিক কীভাবে পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।নিহতের এক স্বজন বলেন, "ছেলে-মেয়ে দুজন প্রেম করে চলে গিয়েছিল। কিন্তু কিশোরীর বাবা পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে আমাদের নিরপরাধ ছেলেকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। আমরা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।"এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, "মূল ঘটনাটি ঢাকার সাভার থানা এলাকায় ঘটেছে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সেখানেই চলছে। পুলিশের পোশাক পরিধান ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"শনিবার নিহতের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী দলে দলে ছুটে আসেন। কফিন নিয়ে থানা চত্বরে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও থানা অবরোধ করেন নিহতের পরিবার ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।