অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ||
আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ উন্নয়ন: গলাচিপায় কাঁচা সড়কে বন্দি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎঅপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগী ইউনিয়নের ঢালীর বাজার থেকে ননুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই রাস্তাটি রূপ নেয় এক কাদার সাগরে, যা স্থানীয় হাজারো মানুষের চলাচলাচলকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বারবার দেওয়া আশ্বাস কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, বাস্তবায়ন হয়নি কোনো টেকসই সমাধান। ফলে বর্ষার কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভবিষ্যৎ।সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই তিন কিলোমিটার বিস্তৃত এই কাঁচা সড়কটিতে হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। তখন কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হয় না, এমনকি সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র সবচেয়ে করুণ। নলুয়াবাগী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ননুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই কাদার যুদ্ধ জয় করে তবেই ক্লাসে পৌঁছাতে হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা আক্ষেপ করে জানান, কাদা মাড়িয়ে আসতে গিয়ে অনেক সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়, জুতো ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে ভয়ে বা কাদার কারণে স্কুলেই আসতে পারে না। ফলে বর্ষা এলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যায় এবং পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হয়।কেবল শিক্ষাক্ষেত্রই নয়, এই বেহাল রাস্তার কারণে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন না পাওয়ায় মরদেহের খাটে করে কাদা মাড়িয়ে হাসপাতালে নিতে বাধ্য হন স্বজনেরা। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত ফসল বাজারে নিতে পারছে না, আর নিলেও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ।ইউপি প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সড়কটি পাকাকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডি দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরণা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য এলজিইডি অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও বাজেট অনুমোদন মিললেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে আশ্বাস নয়, কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।