মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ||
মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর, ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার অভিযোগমদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোনার মদনে গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর ও ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তার গত ৬ আগস্ট মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।জ্যোৎস্না আক্তার ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪ আগস্ট তাঁর মা হঠাৎ স্ট্রোক করলে তিনি এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে মাকে দেখতে নেত্রকোনায় যান। পরদিন ৫ আগস্ট দিনভর মুষলধারে বৃষ্টিপাত থাকায় তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি।অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. শরীফুল ইসলামের মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল।পরদিন ৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক আগের দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন জ্যোৎস্না আক্তার। পরে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।ঘটনার পর বিষয়টি তিনি মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তার বলেন, “আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি আমার মায়ের অসুস্থতার কারণে এবং পরদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য। তাই বলে একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে একজন শিক্ষিকার গায়ে হাত তুলতে পারেন না। আমাকে চড়-থাপ্পড় মেরে ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।” ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. রুজালি মিয়া ও মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে কোনোভাবেই একজন সহকারী শিক্ষিকার গায়ে এভাবে হাত তোলা উচিত নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোছা. ইয়াসমিন আক্তারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে একজন শিক্ষিকার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্যতা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।লিখিত অভিযোগে জ্যোৎস্না আক্তার আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মো. বুলবুল মিয়া, মো. রোজা আলী মিয়া ও মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, “মারধরের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। আমি নিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি শফিকুল সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন করীম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।