আবুল হোসেন সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
কাদা রাস্তায় নিজ উদ্যোগে ইটের রাবিশ ফেলে সংস্কার করলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আনিছআবুল হোসেন সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- বর্ষার কাদা ও পানিতে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল সরিষাবাড়ীর ধোপাদহ–জুলারখুপী কাঁচা রাস্তা। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে কোনো ধরনের অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে রাস্তাটিতে ইটের রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ। এতে স্বস্তি ফিরেছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের মাঝে।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভাটারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাদহ–জুলারখুপী সড়কের কাদাময় অংশে ইটের রাবিশ ফেলে সংস্কারের ব্যবস্থা করেন তিনি।স্থানীয়রা জানান, ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ–নয়াপাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ডি.জে.এস আইডিয়াল স্কুল (জুলারখুপী) হয়ে ভূইয়া বাড়ি–তালতলা পুকুরপাড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে কাদায় পরিণত হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে কাদা ও পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে প্যানেল চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেন। কোনো বরাদ্দ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাস্তাটির কাদাময় অংশে ইটের রাবিশ ফেলে আপাতত চলাচলের উপযোগী করে দেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, “বর্ষার কাদাময় রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্ট হচ্ছিল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যানেল চেয়ারম্যানের উদ্যোগে আপাতত চলাচলের পথটি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে রাস্তাটি যেন স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।এ বিষয়ে ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, “মানুষের দুর্ভোগের সময় পাশে দাঁড়ানোই একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব। বর্ষার কাদা ও পানিতে এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের চলাচলে চরম কষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরই নিজ উদ্যোগে ইটের রাবিশ ফেলে আপাতত পথটি চলাচলের উপযোগী করেছি।”তিনি আরও বলেন, “এই সংস্কার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রাস্তাটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।প্যানেল চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন করা হবে।