ওসমানীনগর প্রতিনিধি শরীফ আহমদ চৌধুরী ||
গোয়ালাবাজারে রাজভোজনে খাবারে তেলাপোকা, সাংবাদিকদের সঙ্গে ম্যানেজারের অসদাচরণের অভিযোগ ওসমানীনগর প্রতিনিধি :‘এটা স্বাভাবিক’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা? আগেও খাবার নিয়ে অসুস্থতার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওরসিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজারের আলোচিত ‘রাজভোজন রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টার’-এ পরিবেশিত খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার সুহেল আহমদ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।সোমবার (১০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক রাজভোজন রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। খাবার পরিবেশনের পর একটি খাবারের মধ্যে তেলাপোকা দেখতে পান তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার সুহেল আহমদকে জানানো হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ সময় সাংবাদিকরা বিষয়টির ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে ম্যানেজার ভিডিও করতে বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হয়েছেন তো কী হয়েছে? যা পারেন করেন।’ ম্যানেজারের এমন আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।প্রশ্ন উঠেছে—একটি খাবারের মধ্যে তেলাপোকা পাওয়ার ঘটনাকে কীভাবে একটি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে? খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি যেখানে গ্রাহকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেখানে এমন বক্তব্য ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।আগেও খাবার নিয়ে অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজভোজন রেস্টুরেন্টে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টের সার্ভিসম্যান ও ম্যানেজারের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ৩০ মে রাজভোজন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে তিনজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগও ওঠে। ওই ঘটনায় সাদীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এহসাম উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পারুল আক্তার এবং খছরুপুর গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক আব্দুল আলী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।এ ছাড়া এর আগে একই রেস্টুরেন্টের খাবারে বিষাক্ত চেলা পাওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছিল। একের পর এক অভিযোগের পরও প্রতিষ্ঠানটির খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বক্তব্য নিতে গিয়ে ক্ষোভ ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার বিষয়টি তারা প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে অবহিত করেন। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করায় তারা বিস্মিত হন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে ম্যানেজার তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন।সাংবাদিকদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠানে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং গ্রাহকের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন নিয়ে এই রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে, খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ, রেস্টুরেন্টের পরিবেশ এবং পূর্বের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অভিযান ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণ, রান্না ও পরিবেশন প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।