মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর ||
একুশে টেলিভিশনের চট্টগ্রামের ডেপুটি নিউজ এডিটর হাসান ফেরদৌস তার দীর্ঘদিনের বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেনমোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- একুশে টেলিভিশনের চট্টগ্রামের ডেপুটি নিউজ এডিটর হাসান ফেরদৌস তার দীর্ঘদিনের বেতন ও অন্যান্য পাওনা না পাওয়ার অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ করেন। সেই নথি অনুযায়ী, তার প্রায় ২০ মাসের বেতনসহ বিভিন্ন পাওনা আটকে ছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী আপোষ-মীমাংসার জন্য শুনানিতে নেওয়া হয়। ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শুনানিতে ডাকা হয়। ২১ জুলাই ২০২৬ প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগকারী হাসান ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। একুশে টেলিভিশনের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধি/আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও তথ্য উপস্থাপনের জন্য সময় চাওয়া হয়। এরপর ২২ জুলাই ২০২৬ পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ওইদিন একুশে টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হতে পারেনি। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।এরপর ৩০ জুলাই ২০২৬ আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতেও একুশে টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষ বা তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে অভিযোগকারী হাসান ফেরদৌস উপস্থিত থেকে তার বক্তব্য ও পাওনার পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। শুনানিতে মালিকপক্ষের অনুপস্থিতি এবং অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর শ্রম অধিদপ্তর তার পাওনা হিসেবে মোট ৩১ লাখ ৬ হাজার ৪৮১ টাকা নির্ধারণ করে। এই টাকার মধ্যে বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৬ আগস্ট ২০২৬ শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত/নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে একুশে টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে হাসান ফেরদৌসের প্রাপ্য ৩১ লাখ ৬ হাজার ৪৮১ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। টাকা পরিশোধের পর পে-স্লিপ, লেনদেনের বিবরণ বা প্রাপ্তি স্বীকারের প্রমাণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১২৪(৬) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বা শ্রম আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।