এম এ হোসেন পাটোয়ারী রংপুর পীরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি ||
পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম: ফলাফল বাতিল ও পুনঃপরীক্ষার দাবিতে স্মারকলিপিরংপুরের পীরগাছা উপজেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের "ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬" কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে স্থানীয়ভাবে। গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফল ঘিরে অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।স্থানীয় ও পরীক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় তিন হাজার তরুণ-তরুণী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) জন্য সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন হাজারো প্রার্থী। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর গভীর রাতে যখন তাঁদের ডাক আসে, ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ করেই হতাশ হন অনেকে।প্রার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডে প্রকৃত মেধা বা যোগ্যতা যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। কেবল নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেই এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে বিদায় করে দেওয়া হয় প্রার্থীদের। প্রকাশিত ফলাফলে প্রাপ্ত নম্বর বা মূল্যায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ মানদণ্ড উল্লেখ ছিল না বলেও অভিযোগ তাঁদের। ভুক্তভোগীদের দাবি, আনুষ্ঠানিক ভাইভার আড়ালে পদগুলো আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে বঞ্চিত হয়েছেন উপজেলার শত শত মেধাবী প্রার্থী। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া যেহেতু উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে, তাই এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়ও প্রশাসনের ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।এই পরিস্থিতিতে পারুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও অভিভাবক প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি অবিলম্বে অনিয়মপূর্ণ ফলাফল বাতিল, প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে স্মারকলিপির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে।ক্ষোভ প্রকাশ করে এক পরীক্ষার্থী বলেন, "সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত না খেয়ে অপেক্ষা করার পর মাত্র এক-দুই মিনিটে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে বের করে দেওয়া হলো। মেধার কোনো প্রকৃত মূল্যায়ন হয়নি বলেই মনে হয়েছে আমাদের।"অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন তা অস্বীকার করে বলেন, "সরকারি বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।"তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল ও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া যেহেতু সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে, তাই এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামছে না। অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল ও নতুন করে স্বচ্ছ পরীক্ষা গ্রহণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।