এম এ হোসেন পাটোয়ারী রংপুর পীরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি ||
পীরগাছায় পরিশোধের পরও পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে নোটিশ, চরম ক্ষোভপীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:- রংপুরের পীরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও ভুতুড়ে কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। পাওনা পরিশোধ ও দাপ্তরিক ক্লিয়ারেন্স থাকার পরও বারবার বকেয়ার নোটিশ পাঠিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ অফিসটির বিরুদ্ধে।অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার গ্রাহক মো: সিরাজুল ইসলামের (হিসাব নম্বর: ১৭২-৩৮০০) বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগটি ২০২১ সালের ২৩ মে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিন ছিল।যাচাই-বাছাইয়ের আগের দিন পীরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে আকস্মিকভাবে ফোন করে জানানো হয়, উক্ত বিচ্ছিন্ন মিটারের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করলে নির্বাচনে তার প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে। নির্বাচনে বৈধতা টিকিয়ে রাখতে প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম তাৎক্ষণিক পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সমুদয় পাওনা টাকা জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই রসিদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচনকালীন বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি ঘটে।কিন্তু নির্বাচনকালীন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করা সত্ত্বেও পীরগাছা পল্লী বিদ্যুতের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও অবহেলার কারণে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুনরায় একই বিচ্ছিন্ন মিটারের বকেয়া দাবি করে গ্রাহকের ঠিকানায় নোটিশ পাঠায় কর্তৃপক্ষ।ভুক্তভোগী মো: সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যেখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর এবং সংসদ নির্বাচনের সময় সকল পাওনা মিটিয়ে সরকারিভাবে ক্লিয়ারেন্স নিলাম, সেখানে বারবার একই মিটারের ভুতুড়ে নোটিশ দিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা ঠিকমতো গ্রাহকসেবা না দিয়ে শুধু মাস শেষে বেতন-ভাতা তুলছেন, অথচ কাজের বেলায় তাদের চরম অবহেলা।"এ বিষয়ে পীরগাছা পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যুৎ অফিসের এমন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নোটিশ বাণিজ্য বন্ধ করে দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।