পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি ||
পীরগাছায় জমি কেনার ১৭ বছরেও দখল বুঝে না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ বিক্রেতার বিরুদ্ধে পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি- রংপুরের পীরগাছায় জমি বিক্রির ১৭ বছর পার হলেও ক্রেতার পরিবারকে দখল বুঝে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ মাছিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বারবার শালিস বৈঠক ও জমি মাপামাপি হলেও বিভিন্ন তালবাহানায় বিক্রিত জমি নিজের দখলে রেখেছেন তিনি। উপজেলার পশ্চিমদেবু ডোরাকুড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিমদেবু মৌজার (খতিয়ান নং ৪২০, জে এল নং ১১৪, দাগ নং ৯৪) পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৬ শতক জমি ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আব্দুল খালেকের কাছে বিক্রি করেন মোঃ ওমর আলীর ছেলে মাছিম মিয়া (দলিল নং ২০০৫৮২৬)। জমি বিক্রির পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে সীমানা মেপে বুঝিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। ক্রয়কৃত জমির একটি সামান্য অংশে ক্রেতা ধান চাষ করলেও পাশেই মাছিমের পুকুর থাকায় প্রতিনিয়ত পাড় ভেঙে জমির আয়তন ছোট হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মাছিম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভেঙে যাওয়া অংশ নিজের পুকুর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীরা জানান, আইল ভেঙে পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে গত ৪ বছর ধরে তারা সেখানে কোনো চাষাবাদ করতে পারছেন না। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল ক্রেতা আব্দুল খালেক মৃত্যুবরণ করার পর তার সন্তানেরা জমি উদ্ধারে নামেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ পর্যন্ত ৫ বার জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিবারই পরদিন তা অস্বীকার করেন অভিযুক্ত মাছিম।সর্বশেষ চলতি বছরে জুন মাসে সমাজপতিদের উপস্থিতিতে পুনরায় জমি মেপে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া হলে ভাঙন রোধে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু গত ১২ জুলাই শ্রমিক নিয়ে গাইড ওয়াল দিতে গেলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাড়া করে কাজ পণ্ড করে দেন মাছিম। পরবর্তীতে আগামী ডিসেম্বরে আবারও জমি মাপার অজুহাত তুলে সীমানা প্রাচীর ও বাঁধ নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন তিনি।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি বুঝে না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি পরিবারটির পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তাদের বৃদ্ধা মাকে একা পেয়ে মাছিম ও তার লোকজন নিয়মিত গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় নিজেদের ক্রয়কৃত জমি ফেরত পেতে এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাছিম মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার ছেলে রুবেল মিয়া জমি বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে যে মাপ দেয়া হয়েছে তা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। আগামী শুকনো মৌসুমে সার্ভেয়ার দিয়ে পূনরায় জমি মেপে তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।