সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ||
সরিষাবাড়ীতে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ,বাড়িতে তালা এলাকায় চাপা ক্ষোভসরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার ও বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসানো হলেও সেখানে অভিযুক্তের অনুপস্থিতি এবং বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া গ্রামের হিশু মণ্ডলের বাড়িতে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সমাজসেবক জামাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন হাফিজুর রহমান। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ওয়াজেদ আলী ওরফে খোকন মিয়া, সোলায়মান, এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সমাজসেবক স্বপন মাস্টার, মঞ্জুরুল ইসলাম ও সুজাত আলীসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। এ সময় স্থানীয় পাঁচ/ ছয় শতাধিক বিভিন্ন পেশাজীবী জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট দুপুরের দিকে বলারদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা দুই সন্তানের জনক মাছুদুল হাসান রানা (৪৮) তার বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে প্রতিবেশী দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তাদের একজনকে বাড়ির একটি কক্ষে মোবাইলে গেম খেলার জন্য মোবাইল দিয়ে বসিয়ে রাখে এবং অপর দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী( ৯)কে বসত ঘর থেকে নিয়ে গোসলখানায় বলাৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। আরো অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রলোভনে বিভিন্ন সময় দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।এ বিষয়টি কাউকে জানালেওই শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।অপর তৃতীয় শ্রেণীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টা করা হলে সে অভিযুক্তকে প্রতিহত করে সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।পরদিন দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী শারীরিক ব্যথার কথা জানালে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রথমে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে দ্বিতীয়বারের মতো শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে ৯ টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।তবে গ্রাম্য সালিশে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত মাছুদুল হাসান রানা সেখানে হাজির হননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় গ্রাম্য সালিশে বিষয়টির কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি ।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিশুদের সঙ্গে এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে জানান তারা।ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ওয়াজেদ আলী ওরফে খোকন মিয়া ও সোলায়মান বলেন, আমরা প্রথমে সামাজিকভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ সালিশে উপস্থিত হয়নি। এখন এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।এ ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুদুল হাসান রানার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।