‘মানবপাচার প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’
সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি :- মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রচারণা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সরকারের উচিত মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে পাঠ্যপুস্তকে এ সংক্রান্ত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিতে হবে, কারণ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) কক্সবাজারের হর্টিকালচার সেন্টার মিলনায়তনে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এই কর্মশালাটি আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের উঃ কুশল্ল্যা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্ঞানপ্রিয় মহাথের। তিনি বলেন, “সমাজে সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের এক ধরণের নৈতিক প্রভাব থাকে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখান। মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও তাঁরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।”
আলোচনায় রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিসেন মহাথের বলেন, “বাংলাদেশে অবৈধ পথে মানবপাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূলসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এটি এখন একটি বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা। আমরা প্রায়ই পাচারের শিকার ভাইদের উদ্ধারের জন্য বিদেশে থাকা ধর্মগুরুদের সহায়তা নিই। আমরা চাই প্রার্থনার দিনগুলোতেও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে, কারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার সুযোগ আমাদের সবারই রয়েছে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কক্সবাজারের সেক্টর স্পেশালিস্ট মং খিং রাখাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়লা শারমিন। মূল প্রবন্ধে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, “অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং অনেক মানুষ সাগরে প্রাণ হারাচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
‘মানবপাচার প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’
সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি :- মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রচারণা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সরকারের উচিত মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে পাঠ্যপুস্তকে এ সংক্রান্ত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিতে হবে, কারণ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) কক্সবাজারের হর্টিকালচার সেন্টার মিলনায়তনে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এই কর্মশালাটি আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের উঃ কুশল্ল্যা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্ঞানপ্রিয় মহাথের। তিনি বলেন, “সমাজে সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের এক ধরণের নৈতিক প্রভাব থাকে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখান। মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও তাঁরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।”
আলোচনায় রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিসেন মহাথের বলেন, “বাংলাদেশে অবৈধ পথে মানবপাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূলসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এটি এখন একটি বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা। আমরা প্রায়ই পাচারের শিকার ভাইদের উদ্ধারের জন্য বিদেশে থাকা ধর্মগুরুদের সহায়তা নিই। আমরা চাই প্রার্থনার দিনগুলোতেও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করতে, কারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার সুযোগ আমাদের সবারই রয়েছে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কক্সবাজারের সেক্টর স্পেশালিস্ট মং খিং রাখাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়লা শারমিন। মূল প্রবন্ধে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, “অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং অনেক মানুষ সাগরে প্রাণ হারাচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন