কালিয়াকৈরে এসএসসি কেন্দ্র সচিব নিয়ে বিতর্ক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি:- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে আসলেও চলতি বছরে তাদের কেন্দ্র পরিবর্তন করে বেগম সুফিয়া মডেল হাই স্কুল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, হঠাৎ কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি কেন্দ্রে সাধারণত কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি—এই দুই ধরনের কমিটি থাকে এবং শিক্ষা বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত পরীক্ষা পরিচালনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে একজন সহকারী শিক্ষককে সহকারী হল সুপার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অন্যদিকে, গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে মোঃ সিরাজুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে চলতি বছর আবারও তিনি কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মাঠ গোপনে কোনো প্রকার প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই টেন্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।এদিকে, সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মোঃ সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।