গাইবান্ধায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের দৃষ্টান্তমুলক
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় গাইবান্ধায় একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং গাইবান্ধা পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় ঘাঘট লেক এলাকায় সপ্তাহব্যাপী কচুরিপানা অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সদর ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার।
পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার (এনডিসি) সাব্বির আহম্মেদ এবং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
তাঁদের উপস্থিতি কর্মসূচিটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।এই অভিযানে অংশ নেয় বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা—গণউন্নয়ন কেন্দ্র, এসকেএস, ওয়ার্ল্ড ভিশন, পদক্ষেপ, ফ্রেন্ডশিপ ও আরএইচ স্টেপ।
এসব প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়ে জনস্বার্থে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ থাকলে যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
তিনি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, আশপাশের পরিবেশ এবং পানিনিষ্কাশনের স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর ও গ্রামীণ উভয় পরিবেশেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য। গাইবান্ধার এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একটি সাময়িক কর্মসূচি নয়; বরং এটি একটি সচেতনতা আন্দোলনের সূচনা। জনসম্পৃক্ততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে এমন উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গাইবান্ধায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের দৃষ্টান্তমুলক
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় গাইবান্ধায় একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং গাইবান্ধা পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় ঘাঘট লেক এলাকায় সপ্তাহব্যাপী কচুরিপানা অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সদর ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার।
পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার (এনডিসি) সাব্বির আহম্মেদ এবং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
তাঁদের উপস্থিতি কর্মসূচিটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।এই অভিযানে অংশ নেয় বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা—গণউন্নয়ন কেন্দ্র, এসকেএস, ওয়ার্ল্ড ভিশন, পদক্ষেপ, ফ্রেন্ডশিপ ও আরএইচ স্টেপ।
এসব প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়ে জনস্বার্থে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ থাকলে যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
তিনি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, আশপাশের পরিবেশ এবং পানিনিষ্কাশনের স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর ও গ্রামীণ উভয় পরিবেশেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য। গাইবান্ধার এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একটি সাময়িক কর্মসূচি নয়; বরং এটি একটি সচেতনতা আন্দোলনের সূচনা। জনসম্পৃক্ততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে এমন উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।

আপনার মতামত লিখুন