ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

কেশবপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা

কেশবপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা

কেশবপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা

ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ ও চরম ভোগান্তি। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেডের পাশাপাশি হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বারান্দায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মানবেতর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ২৫ জন রোগী। এছাড়া জ্বরে আক্রান্ত ৭ জন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন শিশু সহ আরও কয়েকজন রোগী। বহির্বিভাগ ও অন্যান্য ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা একশোরও বেশি।

অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন জানান, ৫০ শয্যার বিপরীতে সীমিত সংখ্যক সেবিকা দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে।

রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই জানান, বেড তো দূরের কথা, মেঝেতেও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে গিয়ে অনেক স্বজন নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

একজন রোগীর অভিভাবক বলেন, “ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টকর।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগী অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।”

তিনি আরও জানান, জনবল সংকট—বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব—পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


কেশবপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

কেশবপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা

ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাপ ও চরম ভোগান্তি। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেডের পাশাপাশি হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বারান্দায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মানবেতর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ২৫ জন রোগী। এছাড়া জ্বরে আক্রান্ত ৭ জন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন শিশু সহ আরও কয়েকজন রোগী। বহির্বিভাগ ও অন্যান্য ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা একশোরও বেশি।

অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন জানান, ৫০ শয্যার বিপরীতে সীমিত সংখ্যক সেবিকা দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে।

রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই জানান, বেড তো দূরের কথা, মেঝেতেও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে গিয়ে অনেক স্বজন নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

একজন রোগীর অভিভাবক বলেন, “ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টকর।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগী অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।”

তিনি আরও জানান, জনবল সংকট—বিশেষ করে নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব—পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ