অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত ইটাকুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের ইটাকুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়-এ প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রিপনের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন প্রধান শিক্ষকই একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তার অনুপস্থিতিতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করছেন। ফলে অফিস ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক তদারকি এবং শিক্ষক সমন্বয় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গত প্রায় ১০ বছরে টিউশন ফি, লাইব্রেরি ফি, পরীক্ষার ফি, বিদ্যালয়ের জমি ও পুকুর থেকে আয়সহ বিভিন্ন খাতের অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, ভবন রং, মাটি ভরাট, দরজা-জানালা স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের তুলনায় কাজ কম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আংশিক কাজ দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি, ফ্যান স্থাপনের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসন-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত ইটাকুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের ইটাকুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়-এ প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রিপনের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন প্রধান শিক্ষকই একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তার অনুপস্থিতিতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করছেন। ফলে অফিস ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক তদারকি এবং শিক্ষক সমন্বয় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গত প্রায় ১০ বছরে টিউশন ফি, লাইব্রেরি ফি, পরীক্ষার ফি, বিদ্যালয়ের জমি ও পুকুর থেকে আয়সহ বিভিন্ন খাতের অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, ভবন রং, মাটি ভরাট, দরজা-জানালা স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের তুলনায় কাজ কম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আংশিক কাজ দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি, ফ্যান স্থাপনের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসন-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন