ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বিজয়।

ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বিজয়।

পটুয়াখালীতে ৭ দেশের অংশগ্রহণে কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

পটুয়াখালীতে ৭ দেশের অংশগ্রহণে কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এম,পি শাহজাহান চৌধুরী

উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এম,পি শাহজাহান চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে কটূক্তির; পটিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে  ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে কটূক্তির; পটিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

আমতলীতে তরুণ উদ্যোক্তা গড়তে ২০০ আখের চারা বিতরণ করল সবুজ ছায়া যুব সংগঠন

আমতলীতে তরুণ উদ্যোক্তা গড়তে ২০০ আখের চারা বিতরণ করল সবুজ ছায়া যুব সংগঠন

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ,থানায় এজাহার

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ,থানায় এজাহার

হরিরামপুরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ত্রৈমাসিক সভা।

হরিরামপুরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ত্রৈমাসিক সভা।

ভোলার বোরহানউদ্দিনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

ভোলার বোরহানউদ্দিনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

গলাচিপায় সংরক্ষিত বনে ৭ অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হলো ৪ ঘর

গলাচিপায় সংরক্ষিত বনে ৭ অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হলো ৪ ঘর

গলাচিপায় সংরক্ষিত বনে ৭ অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হলো ৪ ঘর

অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জলজ প্রাণী, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য  রক্ষায় অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে নির্মিত ছোট-বড় সাতটি অবৈধ বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি জবরদখলের উদ্দেশ্যে নির্মিত চারটি কাঠের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনভর  উপজেলার পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চর কারফারমা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে এসব বাঁধ নির্মাণ করে মাছ আহরণ করা হচ্ছিল। বাঁধের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে বনাঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছিল।

অভিযানের সময় পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চর কারফারমা বনাঞ্চলের ভেতর ও সংলগ্ন বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে নির্মিত সাতটি বাঁধ শনাক্ত করা হয়। পরে বড় ও ছোট শাখা খাল থেকে বাঁধগুলো কেটে অপসারণ করা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গলাচিপা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সাঊদের নেতৃত্বে পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা পশ্চিমা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন বদনাতলী-চরকাজলের মাঝের চরে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সুফল প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করা হয়। সম্প্রতি ওই বাগানের ভেতরে জবরদখলের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে টিনের ছাউনিযুক্ত চারটি কাঠের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘর নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

গলাচিপা পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে মাছ আহরণের উদ্দেশ্যেই সাধারণত এসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়। শীত মৌসুম শেষে মাছ ধরার কার্যক্রম শেষ হলে স্থানীয়রা বাঁধগুলো অপসারণ করে দেন। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে একই স্থানে আবার বাঁধ নির্মাণের প্রবণতা দেখা যায়, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোফরেস্ট্রি ও ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মো. আলমগীর কবির বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের খালগুলো জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

তিনি বলেন, এসব খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র মিস্ত্রী জানান, অবৈধ বাঁধ অপসারণের সময় ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য  রক্ষায় নিয়মিত টহল, নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে বন ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সচেতন করা হচ্ছে এবং অবৈধ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


গলাচিপায় সংরক্ষিত বনে ৭ অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হলো ৪ ঘর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গলাচিপায় সংরক্ষিত বনে ৭ অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ভেঙে দেওয়া হলো ৪ ঘর

অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জলজ প্রাণী, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য  রক্ষায় অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে নির্মিত ছোট-বড় সাতটি অবৈধ বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি জবরদখলের উদ্দেশ্যে নির্মিত চারটি কাঠের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনভর  উপজেলার পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চর কারফারমা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে এসব বাঁধ নির্মাণ করে মাছ আহরণ করা হচ্ছিল। বাঁধের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে বনাঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছিল।

অভিযানের সময় পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চর কারফারমা বনাঞ্চলের ভেতর ও সংলগ্ন বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে নির্মিত সাতটি বাঁধ শনাক্ত করা হয়। পরে বড় ও ছোট শাখা খাল থেকে বাঁধগুলো কেটে অপসারণ করা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গলাচিপা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সাঊদের নেতৃত্বে পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা পশ্চিমা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন বদনাতলী-চরকাজলের মাঝের চরে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সুফল প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করা হয়। সম্প্রতি ওই বাগানের ভেতরে জবরদখলের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে টিনের ছাউনিযুক্ত চারটি কাঠের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘর নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

গলাচিপা পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে মাছ আহরণের উদ্দেশ্যেই সাধারণত এসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়। শীত মৌসুম শেষে মাছ ধরার কার্যক্রম শেষ হলে স্থানীয়রা বাঁধগুলো অপসারণ করে দেন। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে একই স্থানে আবার বাঁধ নির্মাণের প্রবণতা দেখা যায়, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোফরেস্ট্রি ও ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মো. আলমগীর কবির বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের খালগুলো জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

তিনি বলেন, এসব খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র মিস্ত্রী জানান, অবৈধ বাঁধ অপসারণের সময় ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য  রক্ষায় নিয়মিত টহল, নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে বন ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সচেতন করা হচ্ছে এবং অবৈধ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ