ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের বাগাদী গ্রামে মাদক কিনতে এসে যুবসমাজের হাতে আটক যুবক, দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার

চাঁদপুরের বাগাদী গ্রামে মাদক কিনতে এসে যুবসমাজের হাতে আটক যুবক, দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার

চাঁদপুরের বাগাদী গ্রামে মাদক কিনতে এসে যুবসমাজের হাতে আটক যুবক, দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার

চাঁদপুর প্রতিনিধি:- চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গ্রামের মধ্য বাগাদী রারিবাড়ির সামনে বিল্লাল গাজীর দোকানের পাশে মাদক কিনতে এসে মতালেব নামে এক যুবককে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে স্থানীয় যুবসমাজ। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় যুবসমাজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের সময় মতালেবের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের ফোন পেয়ে একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছে ইয়াবা পাওয়ার কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। তাকে কার কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে বাগাদীর রারিবাড়ির মিঠু নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, মিঠুর বাবার নাম বিল্লাল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিঠু দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মাদক বিক্রির অভিযোগে এর আগেও তাকে একাধিকবার এলাকাবাসী আটক করেছেন বলে দাবি তাদের। মিঠুর বিরুদ্ধে গাঁজা প্যাকেট করার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাদকসহ মিঠু আটক হওয়ার পর তিনি ও তার বাবা বিল্লাল বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাগাদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে লোকজন ওই এলাকায় এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়। তাদের দাবি, মিঠুর বাবা বিল্লালের দোকানকে মাদক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অপেক্ষার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মিঠুর ক্রেতারা এলে বিল্লাল তাদের দোকানে বসিয়ে অপেক্ষা করান অথবা মিঠুর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে মাদকসহ মিঠুকে এলাকাবাসী আটক করেছিলেন। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিচার করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে মাদক বিক্রি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। ওই স্ট্যাম্পের কোনো কপি স্থানীয়দের দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্ট্যাম্পে কারা স্বাক্ষর নিয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ঘটনার দিন স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার পাশাপাশি স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে মতালেবকে আটকের পর পুলিশ মিঠুর বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে আসে। তবে সেখানে মিঠু ও তার বাবা বিল্লালকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে বলেও দাবি তাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিঠুর পাশাপাশি রাশেল, হুমায়ুন, রিপন, মহন ও আহাদসহ আরও কয়েকজন এই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। স্থানীয়দের দাবি, মিঠু ও তার সহযোগীরা নিয়মিতভাবে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ওই এলাকায় এক কেজির বেশি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১,০০০ পিস পর্যন্ত ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিঠু, তার বাবা বিল্লাল এবং অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কেনাবেচা চললেও মাদক কিনতে এসে অনেকেই আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু মূল বিক্রেতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

মাদক নির্মূলে বাগাদীর সাধারণ মানুষ এখন আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, পূর্বের স্ট্যাম্পসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি উদ্ধার এবং মাদক সরবরাহের মূল উৎস শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের আহ্বান, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক কারবারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা মাদক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত মিঠু ও তার সহযোগীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং বাগাদী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসন কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চাঁদপুরের বাগাদী গ্রামে মাদক কিনতে এসে যুবসমাজের হাতে আটক যুবক, দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের বাগাদী গ্রামে মাদক কিনতে এসে যুবসমাজের হাতে আটক যুবক, দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার

চাঁদপুর প্রতিনিধি:- চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গ্রামের মধ্য বাগাদী রারিবাড়ির সামনে বিল্লাল গাজীর দোকানের পাশে মাদক কিনতে এসে মতালেব নামে এক যুবককে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে স্থানীয় যুবসমাজ। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় যুবসমাজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের সময় মতালেবের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের ফোন পেয়ে একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছে ইয়াবা পাওয়ার কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। তাকে কার কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে বাগাদীর রারিবাড়ির মিঠু নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, মিঠুর বাবার নাম বিল্লাল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিঠু দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মাদক বিক্রির অভিযোগে এর আগেও তাকে একাধিকবার এলাকাবাসী আটক করেছেন বলে দাবি তাদের। মিঠুর বিরুদ্ধে গাঁজা প্যাকেট করার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাদকসহ মিঠু আটক হওয়ার পর তিনি ও তার বাবা বিল্লাল বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাগাদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে লোকজন ওই এলাকায় এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়। তাদের দাবি, মিঠুর বাবা বিল্লালের দোকানকে মাদক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অপেক্ষার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মিঠুর ক্রেতারা এলে বিল্লাল তাদের দোকানে বসিয়ে অপেক্ষা করান অথবা মিঠুর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে মাদকসহ মিঠুকে এলাকাবাসী আটক করেছিলেন। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিচার করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে মাদক বিক্রি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। ওই স্ট্যাম্পের কোনো কপি স্থানীয়দের দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্ট্যাম্পে কারা স্বাক্ষর নিয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ঘটনার দিন স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার পাশাপাশি স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে মতালেবকে আটকের পর পুলিশ মিঠুর বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে আসে। তবে সেখানে মিঠু ও তার বাবা বিল্লালকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে বলেও দাবি তাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিঠুর পাশাপাশি রাশেল, হুমায়ুন, রিপন, মহন ও আহাদসহ আরও কয়েকজন এই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। স্থানীয়দের দাবি, মিঠু ও তার সহযোগীরা নিয়মিতভাবে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ওই এলাকায় এক কেজির বেশি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১,০০০ পিস পর্যন্ত ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিঠু, তার বাবা বিল্লাল এবং অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কেনাবেচা চললেও মাদক কিনতে এসে অনেকেই আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু মূল বিক্রেতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

মাদক নির্মূলে বাগাদীর সাধারণ মানুষ এখন আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, পূর্বের স্ট্যাম্পসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি উদ্ধার এবং মাদক সরবরাহের মূল উৎস শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের আহ্বান, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক কারবারের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা মাদক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত মিঠু ও তার সহযোগীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং বাগাদী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসন কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ