ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতনে ‘চাঁদাবাজি’! যমুনা সার কারখানায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) কর্মরত শ্রমিকদের বেতন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কারখানার অভ্যন্তর ও প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে কারখানার প্রশাসন বিভাগের অধীনে ১৬৫ জন দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক সরাসরি কাজ করছেন। মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন থেকে তাদের মাসিক বেতন নগদ পরিশোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বেতন নিয়ে বের হওয়ার পরপরই ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কারখানার প্রধান গেট, ক্যান্টিন ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, প্রকাশ্যে এ ধরনের চাঁদাবাজি চললেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
সিভিল বিভাগের শ্রমিক আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, হুমকি দিয়ে তার বেতনের ৬ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার কাছ থেকেও জোরপূর্বক ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।পোগলদিঘা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন,
“আমি বনায়ন বিভাগে কাজ করি। ১২ হাজার টাকা বেতন পেয়েছিলাম। সেখান থেকে অংকন, জুলহাস ও উজ্জ্বল জোর করে ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তারা বলে, এখানে চাকরি করতে হলে বেতনের অর্ধেক দিতে হবে।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে লিটন, অংকন, উজ্জ্বল, মিঠু, মিলন, টিটু, জুলহাস, মজনু, রিপন, ইউসুফ, শামীম, মোতালেব, রুবেল, শফিক ও বাপ্পি মিয়া, সোহেল, বাবু ,স্বপন হারুন সহ একটি চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে বাপ্পি মিয়াকে শ্রমিকদের প্রধান ফটক থেকে ডেকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
শ্রমিকদের দাবি, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, “ঈদের আনন্দ শুরুর আগেই আমাদের বেতনের টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেএফসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন,“বিষয়টি শুনেছি। তবে এটি পুরোপুরি জেএফসিএল কর্তৃপক্ষের বিষয়।”
যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বেতন থেকে টাকা কেটে রাখা বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আমরা জেনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পরিস্থিতি প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতনে ‘চাঁদাবাজি’! যমুনা সার কারখানায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) কর্মরত শ্রমিকদের বেতন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কারখানার অভ্যন্তর ও প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে কারখানার প্রশাসন বিভাগের অধীনে ১৬৫ জন দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক সরাসরি কাজ করছেন। মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন থেকে তাদের মাসিক বেতন নগদ পরিশোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বেতন নিয়ে বের হওয়ার পরপরই ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কারখানার প্রধান গেট, ক্যান্টিন ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, প্রকাশ্যে এ ধরনের চাঁদাবাজি চললেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
সিভিল বিভাগের শ্রমিক আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, হুমকি দিয়ে তার বেতনের ৬ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার কাছ থেকেও জোরপূর্বক ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।পোগলদিঘা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন,
“আমি বনায়ন বিভাগে কাজ করি। ১২ হাজার টাকা বেতন পেয়েছিলাম। সেখান থেকে অংকন, জুলহাস ও উজ্জ্বল জোর করে ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তারা বলে, এখানে চাকরি করতে হলে বেতনের অর্ধেক দিতে হবে।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে লিটন, অংকন, উজ্জ্বল, মিঠু, মিলন, টিটু, জুলহাস, মজনু, রিপন, ইউসুফ, শামীম, মোতালেব, রুবেল, শফিক ও বাপ্পি মিয়া, সোহেল, বাবু ,স্বপন হারুন সহ একটি চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে বাপ্পি মিয়াকে শ্রমিকদের প্রধান ফটক থেকে ডেকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
শ্রমিকদের দাবি, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, “ঈদের আনন্দ শুরুর আগেই আমাদের বেতনের টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেএফসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন,“বিষয়টি শুনেছি। তবে এটি পুরোপুরি জেএফসিএল কর্তৃপক্ষের বিষয়।”
যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বেতন থেকে টাকা কেটে রাখা বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আমরা জেনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পরিস্থিতি প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন