নবীনগরে মানুষের পাশে মানুষের ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীর ঘড় পেয়ে গোলাপি বেগম পেলেন স্থায়ী ঠিকানা
মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের গোলাপি বেগম রাজধানীর শাহবাগের ফুটপাতে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় সেই গোলাপি বেগমের জীবনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এই নারীর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রতনপুর গ্রামে নির্মিত হয়েছে নতুন আধাপাকা বাড়ি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বাড়ির চাবি।
বছরের পর বছর রাজধানীর ব্যস্ত শাহবাগ এলাকায় ফুটপাতে বসবাস করছিলেন গোলাপি বেগম। মাথা গোঁজার কোনো স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই তাঁকে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হতো। তাঁর এই মানবিক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে এলে তাঁর জন্য একটি স্থায়ী আবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রতনপুর গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাড়ির চাবি গোলাপি বেগমের হাতে হস্তান্তর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে উল্লেখ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এক নেতা। তিনি বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যায়, এক বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন‘একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে সময় লাগবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রের সকল সমস্যা সমাধানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি, এক বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
দেশের চলমান সংকটের জন্য বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর প্রভাব হিসেবে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে।
একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন তিনি। নির্বাচনের আগে ওই দলটি কথিত ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি করেছে বলেও মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, তারা কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
সাবেক সরকারের প্রধানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট দলের নেত্রী নাকি ৩১ ডিসেম্বর আসবেন। আমরা বলি, কালকেই আসেন। আপনাদের রিসিভ করার জন্য বসে আছি। সঙ্গে হ্যান্ডকাফ নিয়ে রিসিভ করব।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার করা হবে বলেও বক্তব্য দেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমানকে ‘মানবিক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে তিনি মানবিক নেতৃত্বের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন।
বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান সমস্যা সমাধানে সময় দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
“সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। গোলাপি বেগমের জন্য এই বাড়ি নির্মাণ কেবল একটি ঘর প্রদান নয়, বরং একজন মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সকল বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো অসহায় মানুষ যেন মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন না থাকে, সে লক্ষ্যে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম,আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ,‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
শাহবাগের ফুটপাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রতনপুর গ্রামে নিজের নতুন ঠিকানায় গোলাপি বেগমের এই যাত্রা শুধু একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবীনগরে মানুষের পাশে মানুষের ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীর ঘড় পেয়ে গোলাপি বেগম পেলেন স্থায়ী ঠিকানা
মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের গোলাপি বেগম রাজধানীর শাহবাগের ফুটপাতে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় সেই গোলাপি বেগমের জীবনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এই নারীর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রতনপুর গ্রামে নির্মিত হয়েছে নতুন আধাপাকা বাড়ি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বাড়ির চাবি।
বছরের পর বছর রাজধানীর ব্যস্ত শাহবাগ এলাকায় ফুটপাতে বসবাস করছিলেন গোলাপি বেগম। মাথা গোঁজার কোনো স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই তাঁকে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হতো। তাঁর এই মানবিক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে এলে তাঁর জন্য একটি স্থায়ী আবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রতনপুর গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাড়ির চাবি গোলাপি বেগমের হাতে হস্তান্তর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে উল্লেখ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এক নেতা। তিনি বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যায়, এক বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন‘একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে সময় লাগবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রের সকল সমস্যা সমাধানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি, এক বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
দেশের চলমান সংকটের জন্য বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর প্রভাব হিসেবে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে।
একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন তিনি। নির্বাচনের আগে ওই দলটি কথিত ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি করেছে বলেও মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, তারা কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
সাবেক সরকারের প্রধানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট দলের নেত্রী নাকি ৩১ ডিসেম্বর আসবেন। আমরা বলি, কালকেই আসেন। আপনাদের রিসিভ করার জন্য বসে আছি। সঙ্গে হ্যান্ডকাফ নিয়ে রিসিভ করব।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার করা হবে বলেও বক্তব্য দেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমানকে ‘মানবিক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে তিনি মানবিক নেতৃত্বের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন।
বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান সমস্যা সমাধানে সময় দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
“সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। গোলাপি বেগমের জন্য এই বাড়ি নির্মাণ কেবল একটি ঘর প্রদান নয়, বরং একজন মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সকল বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো অসহায় মানুষ যেন মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন না থাকে, সে লক্ষ্যে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম,আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ,‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
শাহবাগের ফুটপাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রতনপুর গ্রামে নিজের নতুন ঠিকানায় গোলাপি বেগমের এই যাত্রা শুধু একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন