পীরগঞ্জে বসতভিটা দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, হামলায় নারীসহ আহত ৫
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বসতভিটার জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের বিরোধে এক পরিবারের পাঁচজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর আদালতে মামলা হলে চার আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের খামার নারায়ণপুর গ্রামের মসজিদের পেছনে প্রায় চার শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন আব্দুল মালেক। স্থানীয় লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি আগেই কিছু জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে মসজিদ কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষের চলাচলের জন্য প্রায় ছয় ফুট জায়গা নির্ধারণ করে ইটের প্রাচীর দেওয়া হয়।
আব্দুল মালেকের পরিবারের অভিযোগ, প্রাচীর নির্মাণের পর বিবাদীপক্ষ চলাচলের জন্য আরও জায়গা দাবি করে। একপর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে আগের প্রাচীরটি ভেঙে বসতভিটার প্রায় আট ফুট জায়গা দখল করে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
পরিবারটির দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এক বয়স্ক নারী, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও এক শিশুসহ পরিবারের পাঁচজন আহত হন। প্রথমে তাঁদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তাঁরা ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পীরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাদীপক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি এক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদীপক্ষের সাইফুল ইসলাম ও নুর আলম বাপী। তাঁদের দাবি, মসজিদের পেছনে আগে থেকেই রেকর্ডভুক্ত রাস্তা ছিল। আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ধীরে ধীরে সেই রাস্তার জমি দখল করে নেন। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আপসের মাধ্যমেই রাস্তা বের করার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের সময় উল্টো তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছিল এবং এতে কয়েকজন আহত হন। তাঁরাও এ ঘটনায় মামলা করেছেন উল্লেখ করে আব্দুল মালেকের পরিবারের করা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পীরগঞ্জে বসতভিটা দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, হামলায় নারীসহ আহত ৫
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বসতভিটার জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের বিরোধে এক পরিবারের পাঁচজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর আদালতে মামলা হলে চার আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের খামার নারায়ণপুর গ্রামের মসজিদের পেছনে প্রায় চার শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন আব্দুল মালেক। স্থানীয় লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি আগেই কিছু জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে মসজিদ কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষের চলাচলের জন্য প্রায় ছয় ফুট জায়গা নির্ধারণ করে ইটের প্রাচীর দেওয়া হয়।
আব্দুল মালেকের পরিবারের অভিযোগ, প্রাচীর নির্মাণের পর বিবাদীপক্ষ চলাচলের জন্য আরও জায়গা দাবি করে। একপর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে আগের প্রাচীরটি ভেঙে বসতভিটার প্রায় আট ফুট জায়গা দখল করে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
পরিবারটির দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এক বয়স্ক নারী, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও এক শিশুসহ পরিবারের পাঁচজন আহত হন। প্রথমে তাঁদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তাঁরা ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পীরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাদীপক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি এক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদীপক্ষের সাইফুল ইসলাম ও নুর আলম বাপী। তাঁদের দাবি, মসজিদের পেছনে আগে থেকেই রেকর্ডভুক্ত রাস্তা ছিল। আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ধীরে ধীরে সেই রাস্তার জমি দখল করে নেন। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আপসের মাধ্যমেই রাস্তা বের করার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের সময় উল্টো তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছিল এবং এতে কয়েকজন আহত হন। তাঁরাও এ ঘটনায় মামলা করেছেন উল্লেখ করে আব্দুল মালেকের পরিবারের করা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন