হরিরামপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অহেতুক হয়রানির অভিযোগ উঠছে এসআই আকরামের বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে নটাখোলা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আকরামের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের গংগাধী এলাকার আনছার খা নামের এক ভুক্তভোগীকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে টেনে-হেঁচড়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কারণ জানতে চাইলে তাদেরও দালাল বলে আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সরে জমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। কিছু প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহলের সঙ্গে প্রশাসনের সমঝোতার মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনের আচরণে অতিষ্ঠ বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আনসার খা জানান, তিনি একজন নিরীহ মানুষ। কোনো ঝামেলায় নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কে বা কারা তদন্ত কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, তারই জের ধরে এসআই আকরাম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করে রাখেন। পরে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মুসলেম পাঠানকান্দি বর্তমানে বহিরাগত এবং স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল, এমনকি গংগাধী এলাকার ফিরোজ সহ পাটগ্রামের ইউনুস আলী মাতবর এবং প্রশাসনের যৌথ নেতৃত্বে তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার পাঁয়তারা চলছে।
প্রায় এক যুগ ধরে তিনি স্ট্যাম্পের কাগজের ভিত্তিতে তার বসতভিটায় বসবাস করছেন বলে জানান। হঠাৎ একটি কুচক্রী মহল তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চান এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বালিয়াচরের স্থানীয় বাসিন্দা মাঈনদ্দীন মল্লিক জানান, বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি এসআই আকরামের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দালাল বলে আখ্যায়িত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, কিছুদিন আগে নটাখোলা তদন্ত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে মজুদকৃত তেলের চালান বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া মামলা-বাণিজ্য ও চলছে এ কেন্দ্রে। নিরীহ সাধারণ মানুষ কিছু পুলিশের কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।নটাখোলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আকরাম জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে নটাখোলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত ওসি ফারুক হোসেন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি পরে জানতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে তিনি এসআই আকরামকে জোরালোভাবে অবগত করেছেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সারোয়ার মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সুষ্ঠু তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
হরিরামপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অহেতুক হয়রানির অভিযোগ উঠছে এসআই আকরামের বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে নটাখোলা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আকরামের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের গংগাধী এলাকার আনছার খা নামের এক ভুক্তভোগীকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে টেনে-হেঁচড়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কারণ জানতে চাইলে তাদেরও দালাল বলে আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সরে জমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। কিছু প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহলের সঙ্গে প্রশাসনের সমঝোতার মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনের আচরণে অতিষ্ঠ বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আনসার খা জানান, তিনি একজন নিরীহ মানুষ। কোনো ঝামেলায় নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কে বা কারা তদন্ত কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, তারই জের ধরে এসআই আকরাম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করে রাখেন। পরে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মুসলেম পাঠানকান্দি বর্তমানে বহিরাগত এবং স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল, এমনকি গংগাধী এলাকার ফিরোজ সহ পাটগ্রামের ইউনুস আলী মাতবর এবং প্রশাসনের যৌথ নেতৃত্বে তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার পাঁয়তারা চলছে।
প্রায় এক যুগ ধরে তিনি স্ট্যাম্পের কাগজের ভিত্তিতে তার বসতভিটায় বসবাস করছেন বলে জানান। হঠাৎ একটি কুচক্রী মহল তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চান এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বালিয়াচরের স্থানীয় বাসিন্দা মাঈনদ্দীন মল্লিক জানান, বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি এসআই আকরামের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দালাল বলে আখ্যায়িত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, কিছুদিন আগে নটাখোলা তদন্ত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে মজুদকৃত তেলের চালান বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া মামলা-বাণিজ্য ও চলছে এ কেন্দ্রে। নিরীহ সাধারণ মানুষ কিছু পুলিশের কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।নটাখোলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আকরাম জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে নটাখোলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত ওসি ফারুক হোসেন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি পরে জানতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে তিনি এসআই আকরামকে জোরালোভাবে অবগত করেছেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সারোয়ার মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সুষ্ঠু তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন